সীমান্ত সাংবাদিকতা সাধারণ বিট রিপোর্টিং নয়। এখানে একটি শব্দ, একটি বাক্য, একটি পরিভাষা, এমনকি কোনো শব্দের অনুপস্থিতিও কূটনৈতিক ব্যাখ্যার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিজিবি-বিএসএফের মতো দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে প্রতিবেদন করতে হলে শুধু কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া তথ্য যথেষ্ট নয়, দরকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত অপরাধ, বিওপি পর্যায়ের বাস্তবতা, কূটনৈতিক ভাষা, প্রাতিষ্ঠানিক রীতি এবং আলোচনার নথিগত কাঠামো সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা।
উগ্র ডানপন্থী একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি এই ন্যূনতম পরিপক্বতার অভাবই সামনে এনেছে। প্রশ্ন হলো, এটি কি কেবল পেশাগত অপরিপক্বতা, নাকি সচেতনভাবে তৈরি করা ভ্রান্তি?
৮ থেকে ১১ জুন ২০২৬, ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক। আলোচনার টেবিলে ছিল সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা, অবৈধ পুশ-ইন বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বিএসএফের অবৈধ অবকাঠামো অপসারণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে সমন্বিত নজরদারি এবং পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নির্মূলে দ্বিপাক্ষিক গোয়েন্দা সহযোগিতার মতো কঠিন ও স্পর্শকাতর বিষয়।
এসব ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
সম্মেলন শেষে ওই উগ্র ডানপন্থী জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করে “দুই দেশের বিবৃতিতে রহস্যময় ফারাক” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি করেছেন পত্রিকাটির একজন কূটনৈতিক প্রতিবেদক। কূটনৈতিক বিটের চোখে সীমান্ত সম্মেলন দেখা স্বাভাবিক, কিন্তু সীমান্ত সাংবাদিকতায় শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কূটনৈতিক ভাষ্য যথেষ্ট নয়। কারণ সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, অবৈধ অবকাঠামো, মাদক চোরাচালান কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ে আলোচনার ভেতরে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, অপরাধ বিটের অভিজ্ঞতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কাঠামোর ধারণা সরাসরি যুক্ত থাকে।
সেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলে যৌথ বিবৃতির শব্দ, জেআরডির গুরুত্ব, সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং আলোচ্যসূচি বিনিময়ের মতো বিষয় সহজেই ভুল ফ্রেমে পড়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনটির মূল দাবি ছিল, যৌথ বিবৃতিতে ‘পুশ-ইন’ ও ‘সীমান্ত হত্যা’ শব্দ না থাকায় বিজিবি নাকি ভারতের কাছে নতিস্বীকার করেছে। আরও দাবি করা হয়, বিজিবি মহাপরিচালকের ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক ছিল ‘গোপন’, সেখানে একটি ‘গোপন চিঠি’ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের ‘পজিশন পেপার’ আগেই বিএসএফের হাতে চলে গেছে।
এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্য যে ধরনের প্রমাণ, নথি, প্রত্যক্ষ সূত্র বা যাচাইযোগ্য তথ্য প্রয়োজন, প্রতিবেদনে তার স্পষ্ট ঘাটতি ছিল। সেখানে ভরসা করা হয়েছে ‘নিরাপত্তা সূত্র’ ও ‘বিভাগীয় সূত্র’ ধরনের নামহীন সূত্রের ওপর।
সূত্রের নাম নেই, পরিচয় নেই, অবস্থান নেই, যাচাইয়ের সুযোগ নেই। অথচ সেই অদৃশ্য সূত্রের ওপর দাঁড় করানো হয়েছে একটি জাতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বড় অভিযোগ। এখানেই সীমান্ত সাংবাদিকতার অপরিপক্বতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে যৌথ প্রেস বিবৃতি নিয়ে। প্রতিবেদকের যুক্তি, যৌথ বিবৃতিতে ‘পুশ-ইন’ বা ‘সীমান্ত হত্যা’ শব্দ নেই, তাই বিজিবির অবস্থান দুর্বল। কিন্তু বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনের প্রামাণিক আলোচ্য দলিল কোনো সংক্ষিপ্ত প্রেস বিবৃতি নয়।
মূল আলোচ্য নথি হলো জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস বা জেআরডি, যেখানে উভয় মহাপরিচালকের স্বাক্ষরে আলোচ্য বিষয়গুলো নথিবদ্ধ থাকে। বিজিবির প্রতিবাদলিপিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘কিলিং’ এবং ‘পুশ-ইন’ বিষয়গুলো জেআরডিতে নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মূল উদ্বেগগুলো শুধু আলোচনায় তোলা হয়নি, প্রাতিষ্ঠানিক নথিতেও রাখা হয়েছে।
যৌথ প্রেস বিবৃতি আর জেআরডি এক জিনিস নয়। যৌথ প্রেস বিবৃতি সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশযোগ্য সংক্ষিপ্ত দলিল, যেখানে কূটনৈতিক ভাষা ও পরিভাষার সীমাবদ্ধতা থাকে। সেখানে কখনো কখনো সরাসরি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল শব্দের বদলে নরম বা সাধারণীকৃত ভাষা ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে জেআরডি হলো আলোচনার পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড। অংশগ্রহণকারী দেশ নিজস্ব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের জাতীয় উদ্বেগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে, এটিও আন্তর্জাতিক রীতি। এই মৌলিক পার্থক্য না বুঝে পুরো সম্মেলনকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখানো পেশাগতভাবে অপরিণত। আর বুঝে থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে এই পার্থক্য আড়াল করা হয়ে থাকলে সেটি আরও গুরুতর।
অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়েও একইভাবে রহস্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদকের বক্তব্য, আগেরবার দিল্লি সফরে এমন বৈঠক হয়নি, এবার কেন হলো। কিন্তু এই যুক্তি অর্ধসত্যের ওপর দাঁড়িয়ে।
গত ফেব্রুয়ারিতেও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জরুরি বৈঠকের কারণে অমিত শাহ সময় দিতে পারেননি। ফলে সেবার সাক্ষাৎ হয়নি, এবার হয়েছে। এই তথ্যটি বাদ দিলে ঘটনাটি রহস্যজনক দেখানো যায়। কিন্তু প্রেক্ষাপটসহ বললে এটি স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই দাঁড়ায়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখন সেটি স্বাভাবিক রীতি ছিল। এবার বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেই সেটি ‘গোপন’ বা ‘রহস্যজনক’ হয়ে যায় কীভাবে? একই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক রীতিকে নিজের সুবিধামতো কখনো স্বাভাবিক, কখনো সন্দেহজনক বলা সাংবাদিকতার সততা নয়। এটি প্রেক্ষাপট লুকিয়ে সন্দেহ তৈরির কৌশল।
প্রতিবেদকের বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, বৈঠকের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে বিজিবি নাকি বিএসএফের এজেন্ডা পেয়েছে। অথচ বিজিবির প্রতিবাদলিপিতে সুনির্দিষ্ট তারিখসহ বলা হয়েছে, বিএসএফ তাদের এজেন্ডা পাঠিয়েছে ১৪ মে ২০২৬ এবং বিজিবি তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ১৬ মে ২০২৬। অর্থাৎ সম্মেলন শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই এজেন্ডা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়াধীন ছিল। তাহলে ‘দুই ঘণ্টা আগে’ কথাটি কোথা থেকে এলো? এটি আর ব্যাখ্যার ভুল নয়, তথ্যগতভাবে সরাসরি অসত্য বলেই প্রতীয়মান হয়।
বিজিবি ১৪ জুনই ওই উগ্র ডানপন্থী জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবাদলিপি পাঠায়। অনুলিপি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছেও। প্রতিবাদলিপিতে তারিখ, নথি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে প্রতিবেদনের প্রধান অভিযোগগুলো খণ্ডন করা হয়।
কিন্তু পত্রিকাটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করলেও সেটির উপস্থাপন ছিল দায়সারা। লিড প্রতিবেদনের বিপরীতে প্রতিবাদলিপিটি ছাপা হয়েছে সিঙ্গেল কলামে, আর তার সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদকের বক্তব্য। ফলে পাঠক বিজিবির তথ্যভিত্তিক খণ্ডন পড়ার আগেই আবার প্রতিবেদকের ব্যাখ্যার ভেতরে ঢুকে যান। এতে প্রতিবাদ প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা হলেও তথ্যগত বিভ্রান্তি দূর করার নৈতিক দায়িত্ব পূর্ণ হয়নি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন একই দাবিগুলোর ওপর ভিত্তি করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করাও প্রশ্ন তৈরি করে। একটি প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ হতে পারে, তাড়াহুড়োয় ভুল হতে পারে। কিন্তু সেই একই প্রতিবেদনের অপ্রমাণিত অভিযোগকে সম্পাদকীয়র ভারি ভাষায় পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা নিছক ভুল নয়। এটি একটি সচেতন সম্পাদকীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
একই দাবি একবার সংবাদ, আরেকবার সম্পাদকীয় হিসেবে পরিবেশিত হলে পাঠকের মনে সেটি ধীরে ধীরে অভিযোগ থেকে সত্যের মতো জায়গা নিতে শুরু করে। এখানেই সাংবাদিকতা আর ন্যারেটিভ নির্মাণের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়।
প্রতিবেদক তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন, ওই সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় নীতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং বিজিবির মনোবল বৃদ্ধির পক্ষে। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় এবং প্রতিবাদলিপি প্রকাশের ধরন মিলিয়ে পত্রিকাটির আচরণ সেই দাবির সঙ্গে মেলে না।
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও অবৈধ সীমান্ত অবকাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ যখন কঠিন দরকষাকষিতে রয়েছে, তখন দেশের ভেতর থেকে নিজের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেতৃত্বকে ‘আত্মসমর্পণকারী’ বা ‘আপোসকামী’ হিসেবে চিত্রিত করা বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে না। বরং দুর্বল করে। এতে বিএসএফ চাপে পড়ে না, চাপে পড়ে বিজিবি। এতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবল বাড়ে না, বরং নেতৃত্বের প্রতি অযথা সন্দেহ তৈরির ঝুঁকি তৈরি হয়।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধ, সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বিজিবি যে ভূমিকা রেখেছে, তা জনমনে বাহিনীটির প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে।
সেই সময়ে একটি জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রমাণহীন অভিযোগের লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই সার্বভৌমত্বের পক্ষে সাংবাদিকতা হতে পারে না। এটি বরং এমন এক সন্দেহের পরিবেশ তৈরি করে, যা সীমান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকেই দুর্বল করে।
সমালোচনা গণমাধ্যমের অধিকার। বিজিবির কোনো সিদ্ধান্ত, বক্তব্য বা কূটনৈতিক অবস্থানে ঘাটতি থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবশ্যই সাংবাদিকতার কাজ। সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন কিংবা যৌথ বিবৃতির ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু সেই প্রশ্ন হতে হবে তথ্যনির্ভর, প্রমাণনির্ভর এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ। নামহীন সূত্র, অর্ধসত্য, অনুমান এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিকে রহস্য হিসেবে সাজিয়ে তোলা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নয়।
এই বিতর্কের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন তাই শুধু উগ্র ডানপন্থী ওই জাতীয় পত্রিকারটির প্রতিবেদনটি ভুল ছিল কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, সীমান্তের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে এমন ভ্রান্তি কীভাবে তৈরি হলো? এটি কি সীমান্ত কূটনীতি, সীমান্ত অপরাধ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা না বোঝার অপরিপক্বতা, নাকি প্রেক্ষাপট জেনেও সেটিকে আড়াল করার সচেতন প্রয়াস?
যৌথ প্রেস বিবৃতি ও জেআরডির পার্থক্য, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গোপন বৈঠকের পার্থক্য, প্রমাণভিত্তিক রিপোর্টিং ও অনুমাননির্ভর উত্তেজনার পার্থক্য যদি একটি সংবাদমাধ্যম না বোঝে, তবে সেটি অপরিপক্বতা। আর বুঝেও যদি পাঠকের সামনে ভুল ফ্রেমে উপস্থাপন করে, তবে সেটি উদ্দেশ্যমূলক ভ্রান্তি।
সীমান্ত বাস্তবতা কোনো আবেগী স্লোগানের জায়গা নয়। সেখানে প্রতিটি শব্দের কূটনৈতিক মূল্য আছে, প্রতিটি অবস্থানের নিরাপত্তাগত তাৎপর্য আছে এবং প্রতিটি বিভ্রান্তির মূল্য দিতে হয় রাষ্ট্রকে। তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তথ্যের সততা, প্রেক্ষাপটের পূর্ণতা এবং দায়িত্বশীল ভাষাও সমান জরুরি।
সীমান্ত সাংবাদিকতায় অপরিপক্বতার সুযোগ নেই। আর যদি সেই অপরিপক্বতা ইচ্ছাকৃত হয়, তাহলে তা শুধু সাংবাদিকতার ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিরুদ্ধেও এক বিপজ্জনক অবস্থান।



