কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত ‘পুশইন’-এর শিকার হয়ে টানা ১৪ দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিন যুবক। বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্তে নজরদারি বজায় রাখলেও তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবকের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে ইজলামারী সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। প্রখর রোদ থেকে বাঁচতে নিজেদের পরনের পোশাক টাঙিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করেছেন। খোলা আকাশের নিচেই কাটছে তাদের দিন-রাত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই তিন যুবক নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা হলেন—ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২), সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬) এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১)।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, “ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যেই তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ইজলামারী বিজিবি ক্যাম্প এবং স্থানীয়রা খাবারের ব্যবস্থা করলেও ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
এর আগে, গত ১৪ জুন ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে ‘পুশইন’-এর চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ অংশে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ।
পরবর্তীতে মা ও দুই শিশুর মানবিক সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৮ জুন ভোরে ওই দম্পতি ও দুই শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২৩ জুন একই সীমান্তের আরও দুই যুবককে সরিয়ে নেওয়া হলেও ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবক এখনো বিজিবি ও বিএসএফের নজরদারির মধ্যে অবস্থান করছেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বিএসএফ দাবি করছে, ওই তিন যুবক ভারতের নাগরিক নন। ফলে তারা বিষয়টির সমাধানে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।



