ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া অভিযোগ প্রাথমিক যাচাই বাছাই করা হয়েছে। অভিযোগগুলো দুদকের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ হলে দুদক সেটা খতিয়ে দেখা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষগ্রহণ, কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের যাচাই-বাছাই কমিটি সেটাগুলোর একটি তালিকা করেছে। তবে এখন কমিশন না থাকায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে অনুসন্ধান শুরু করা যাবে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চেয়েছেন। তিনি দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুদকে যেসব অভিযোগ জমা হয়, সেগুলো দুদকের তফসিলভুক্ত এবং আমলযোগ্য কিনা তা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে থাকে। সে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি, বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারী কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং মামলা ও জামিন বাণিজ্য, সরকারের একাধিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ, অন্যের সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ও অবৈধ দখল, কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।



