বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দীনর দোকান এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইমরানুর রহমান, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসমান গণি নিশাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে সিরাজপুর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে ছাত্রশিবিরের কর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আটক করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সমাধানের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় বিএনপি নেতারা উদ্যোগ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৮টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজুর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহের অভিযোগ করেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মী দীনর দোকান এলাকায় গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি করছে।



