জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ফজলুর রহমান। বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
শুক্রবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি) আমাদের একটা রিকুইজিশন দিয়েছিল। সেই রিকুইজিশনের ভিত্তিতে আমরা তাকে (এএসপি ফজলুর রহমান) গ্রেফতার করেছি।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় সুখরঞ্জন বালীকে কিডন্যাপের (অপহরণ) সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, ঘটনার সময় ফজলুর রহমান ডিবিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী সুখরঞ্জন বালী হাইকোর্ট এলাকায় গাড়ি থেকে নামলে তাকে একটা থাপ্পড় মারেন ফজলুর। এরপর শার্টের কলার ধরে তাকে ডিবির গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার টিম প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুখরঞ্জন বালী পিরোজপুরের বাসিন্দা এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলা মামলার একজন প্রতিরক্ষা সাক্ষী ছিলেন। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তিনি নিখোঁজ হন। সে সময় তার আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে সুখরঞ্জন বালী অভিযোগ করেন, তাকে কয়েক মাস গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং পরে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতে কয়েক বছর কারাভোগের পর দেশে ফিরে তিনি এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেই অভিযোগের তদন্তের ধারাবাহিকতায় সাবেক এএসপি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হতে পারে।



