ঐতিহাসিক পদ্মা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট দূর, নদীদখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন।
শুক্রবার সকাল ছয়টায় মহানগরীর লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হওয়া সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাসিক প্রশাসক বলেন, ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন নদী রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী সামাজিক উদ্যোগ। সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই পদ্মাসহ দেশের সব নদ-নদীকে রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত নদী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি ম্যারাথনে অংশ নেওয়া সব প্রতিযোগীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় আয়োজকদেরও ধন্যবাদ জানান।
ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে আবার মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৫৫০ দৌড়বিদ অংশ নেন। এদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন ছিলেন নারী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা ও সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, সংগঠনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম সানিসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, ‘রান ফর পদ্মা’ কেবল রাজশাহীর একক আয়োজন নয়; এটি দেশের নদ-নদী রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির একটি সামাজিক আন্দোলন। ঐতিহাসিক পদ্মাসহ দেশের সব নদী বাঁচানোর দাবি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের মতে, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতেই এই মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।



