প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহারের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (জব্দ) করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির আবেদনের পর ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন।
সিআইডি জানিয়েছে, আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় দায়ের করা মামলা (নং-০৫, তারিখ ৪ মে ২০২৫) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ও ৪(৪) ধারায় রুজু করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে খায়রুল বাশার বাহার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় তার প্রথম স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা (ডোনা)-এর নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট, রাজাবাজার এলাকায় তার নিজের নামে দুটি ফ্ল্যাট এবং আজিজ সড়কে জি+৭ ও জি+৬ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন রয়েছে।
এ ছাড়া তার নিজের নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩ হাজার ৪৮২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পত্তির দলিল মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সিআইডি। আদালতের আদেশে এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।
সিআইডির ভাষ্য, নিজেকে শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও খায়রুল বাশার বাহার মূলত বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা করতেন। এই চক্র বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং সেই অর্থে বিপুল সম্পদের মালিক হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে।



