আগুন লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের প্রথম ফাইনালিস্ট হয়ে গেছে স্পেন। এবার দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট নির্ধারণে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজকের সেমিফাইনাল ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তুঙ্গে উত্তেজনা। কোটি কোটি সমর্থকের চোখ এখন লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনদের লড়াইয়ে।

এটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথও বটে। দুই দলের প্রতিটি লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, প্রতিশোধ আর গৌরবের গল্প। তাই ফাইনালের আগে এই ম্যাচকেই অনেকে বলছেন ‘আরেকটি ফাইনাল’।

শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার সামনে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম, ডেকলান রাইস, অ্যান্থনি গর্ডন ও অধিনায়ক হ্যারি কেইনদের নেতৃত্বে ইংলিশরা এবার ট্রফির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে থাকছেন লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতায় এগিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেদের লক্ষ্য ইতিহাস অক্ষুণ্ন রাখা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে কখনও হারেনি আর্জেন্টিনা। সেই রেকর্ড ধরে রাখার পরীক্ষাই আজ লিওনেল স্কালোনির দলের সামনে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মানেই ফিরে দেখা বহু স্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনা রচনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। একই ম্যাচে করেছিলেন বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে একক নৈপুণ্যে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল। সেই ম্যাচ এখনও ইংলিশদের জন্য বেদনাদায়ক স্মৃতি, আর আর্জেন্টাইনদের কাছে গর্বের ইতিহাস।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয়, আবার ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ—দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।

এবারের ম্যাচে আরেকটি বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই প্রথম মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাই মেসির সামনে যেমন নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ, তেমনি ইংল্যান্ডের জন্যও এটি হতে পারে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের মঞ্চ।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে নরওয়েকে বিদায় করে শেষ চারে এসেছে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের আগে দুই দলই ফিটনেস ও কৌশল নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

স্পেন ইতোমধ্যে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। এখন দেখার অপেক্ষা—আজ আটলান্টায় মেসির আর্জেন্টিনা, নাকি কেইনের ইংল্যান্ড, কারা হবে লা রোজার প্রতিপক্ষ। ফুটবল বিশ্বের কোটি সমর্থক অপেক্ষায় আরেকটি মহারণের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments