বিশ্বকাপ ফুটবলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যেন রূপ নিল গোল উৎসবে। দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল, রক্ষণভাগের একের পর এক ভুল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে দর্শকরা উপভোগ করলেন ১০ গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের নৈপুণ্যে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। এর ফলও আসে খুব দ্রুত। তৃতীয় মিনিটে ডেকলান রাইসের দূরপাল্লার জোরালো শটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৮তম মিনিটে কর্নার থেকে এজরি কনসার হেডে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও থেমে থাকেনি ইংল্যান্ড। ৩৭তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের প্রথম গোল করেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৪৫+১) আবারও গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন এই ইংলিশ তারকা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ডের দাপুটে আধিপত্যে।
বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে ফ্রান্স। ৪৮তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোল করে ব্যবধান কমান। মাত্র ছয় মিনিট পর, ৫৪তম মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করলে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে ফরাসিদের। ৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-৩-এ নামিয়ে আনেন এমবাপে। এক সময় মনে হচ্ছিল, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটাতে যাচ্ছে ফ্রান্স।
তবে শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয় ইংল্যান্ড। ৮৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। এতে ইংল্যান্ড আবারও দুই গোলের ব্যবধান গড়ে তোলে।
হার না মানা ফ্রান্স ৮৯তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের গোলে আবারও ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করে। কিন্তু যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯০+৪) জুড বেলিংহ্যাম দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোলটি করলে সব আশা শেষ হয়ে যায় ফরাসিদের।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৬-৪ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
গোলদাতারা
৩ মিনিট : ডেকলান রাইস (ইংল্যান্ড) – ১-০
১৮ মিনিট : এজরি কনসা (ইংল্যান্ড) – ২-০
৩৭ মিনিট : বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড) – ৩-০
৪৫+১ মিনিট : বুকায়ো সাকা (ইংল্যান্ড) – ৪-০
৪৮ মিনিট : কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) – ৪-১
৫৪ মিনিট : ব্র্যাডলি বারকোলা (ফ্রান্স) – ৪-২
৬৬ মিনিট : কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স) – ৪-৩
৮৭ মিনিট : বুকায়ো সাকা (পেনাল্টি, ইংল্যান্ড) – ৫-৩
৮৯ মিনিট : উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) – ৫-৪
৯০+৪ মিনিট : জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড) – ৬-৪
এই ম্যাচে গোলের বন্যা হওয়ার প্রধান কারণ ছিল দুই দলের আক্রমণাত্মক কৌশল এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা। বিশেষ করে প্রথমার্ধে ফ্রান্সের রক্ষণভাগ বারবার ভুল করেছে, আর দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করতে গিয়ে তারা আরও বেশি আক্রমণে ওঠায় পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং শেষ পর্যন্ত ১০ গোলের এক স্মরণীয় লড়াই জিতে বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের করে নেয়।



