আটতলা ভবনের মালামালের তালিকা, জব্দ সম্পদের হিসাব নিচ্ছে দুদক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের আটতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুত করছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, সোমবার সকালে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জলসিঁড়ির ওই বাড়িতে যায়। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল আদালতের আদেশ অনুযায়ি ক্রোক করা সম্পত্তির অংশ হিসেবে ভবনের ভেতরে থাকা মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির আটতলা বাড়িতে ইনভেন্টরির কার্যক্রম চলছে। বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামালের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুতের পর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কী কী পাওয়া গেছে:
দুদকের কর্মকর্তারা অভিযান শেষে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ জব্দ তালিকা প্রকাশ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়ির প্রতিটি কক্ষ ঘুরে থাকা মালামালের তালিকা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, বিদেশী শোপিস ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
তবে কোনো নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার বা নির্দিষ্ট কোনো মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের তথ্য এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
আদালতের আদেশে সম্পদ ক্রোক:
এর আগে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় আদালত জিয়াউল আহসানের স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। দুদকের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে জলসিঁড়ির আটতলা বাড়িসহ তার বিভিন্ন সম্পদের বিষয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগ, জিয়াউল আহসান তার পরিচিত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অনুমোদিত সীমার বাইরে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার রাখা এবং আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল সম্পদ
দুদকের অনুসন্ধানে জিয়াউল আহসানের নামে বিভিন্ন সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এর মধ্যে বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় এসব সম্পদের উৎস এবং অর্থের লেনদেন তদন্ত করা হচ্ছে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, জলসিঁড়ির বাড়ির মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



