রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিজিএমইএর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিটিএমএর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
বৈঠকে শিল্প মালিকরা জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমিত সরবরাহ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, কার্যকর মূলধনের সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন এবং সীমিত ব্যাংক ঋণের কারণে শিল্পখাত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সমন্বিত শুল্ক-কর, আর্থিক ও রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
বিটিএমএ জানায়, জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ টেক্সটাইল মিল স্থাপিত সক্ষমতার মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে। ২০১৯ সাল থেকে ২৪৪টি টেক্সটাইল মিল এবং ৪৫০টির বেশি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে পোশাকশিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকশিল্পের বিকাশে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান করাও সরকারের দায়িত্ব এবং সে দায়িত্ব পালনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজিএমইএ বৈঠকে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত, কাস্টমস, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানায়। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে একটি অস্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণ এবং গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে খাসজমি বরাদ্দের আবেদন করা হয়।
বিটিএমএ সুদহার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে নির্ধারণ, ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেয়।
বন্ধ কারখানা চালু হলে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে টেক্সটাইল খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবারও বৈঠকের সময় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
রিহ্যাবের আবেদন
এদিন প্রধানমন্ত্রী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
বৈঠকে রিহ্যাব জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতের সব সরকারি সেবা ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।



