কুড়িগ্রামে ৪টি গাঁজা গাছ উদ্ধার, চাষি গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদকের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও চারটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গাঁজা চাষের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া গাঁজার মালিককে শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব গাঁজা ও গাঁজা গাছ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দফাদার মোড় সংলগ্ন একটি সরু সেতুর ওপর অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভূরুঙ্গামারী বাজারগামী একটি অটোরিকশার ধানের ভূষিভর্তি বস্তার মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বহনকারী ব্যক্তি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা গাঁজা পরিত্যক্ত আলামত হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে আদালতে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মাদকের প্রকৃত মালিক শনাক্ত হলে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

একই দিন দুপুর ১২টার দিকে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফজর আলী শুক্কুর (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বসতবাড়ির উঠান থেকে দুটি পরিপক্ব গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাঁজা চাষের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাহাট পুরাতন রেলসেতু ও নবনির্মিত সড়কসেতুর মধ্যবর্তী নদীর তীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকানাবিহীন আরও দুটি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। এসব গাছ কে বা কারা রোপণ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাদক কারবারিরা যেখানেই বা যে কৌশলেই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করুক না কেন, পুলিশ তা উদঘাটনে সক্ষম। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মাদকমুক্ত ভূরুঙ্গামারী গড়ে তোলা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments