রংপুর মেডিকেলের হৃদরোগ বিভাগে এসি বিকল, ফ্যান ঘোরে ধীরে

গরমে অতিষ্ঠ করোনারি কেয়ার ইউনিটের রোগীরা, স্বজনদের ভোগান্তি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। বেশির ভাগ এসি বিকল থাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। একই সঙ্গে ওয়ার্ডের সিলিং ফ্যানগুলোও ধীরগতিতে ঘোরায় স্বস্তি মিলছে না রোগীদের।

হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, গরম থেকে রক্ষা পেতে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা নিজেদের উদ্যোগে টেবিল ফ্যান এনে ব্যবহার করছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় আরামদায়ক পরিবেশ না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় হৃদরোগ বিভাগের সাধারণ ওয়ার্ড (৪ নম্বর), ব্লক এফসি-২১, ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বেডেই রোগীরা নিজ উদ্যোগে টেবিল ফ্যান ব্যবহার করছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হৃদরোগী নাসিমা বেগম (৩৫) বলেন, “হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। সাধারণ ওয়ার্ডে কোনো এসি নেই। যে ফ্যানগুলো আছে, সেগুলোও খুব ধীরে ঘোরে। সামান্য বাতাস পাওয়া যায়।”

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রোগী আনোয়ারা বেগম বলেন, “সন্ধ্যার পর কক্ষের ভেতরে গরম আরও বেড়ে যায়। গরম বাতাসে রোগীদের কষ্ট হয়।”

দীর্ঘদিন বিকল এসি

হৃদরোগ বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সিনিয়র নার্স আঞ্জুমান আরা জানান, এ ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে কোনো এসি নেই। আগে কিছু এসি স্থাপন করা হলেও সেগুলো অনেক আগেই খুলে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে এ ওয়ার্ডে প্রায় ১০০ জন রোগী থাকে। কখনো কখনো রোগীর সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। অথচ বেড সংখ্যা মাত্র ২৪টি।”

তিনি আরও জানান, হৃদরোগ বিভাগের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের পোস্ট সিসিইউ-১, পোস্ট সিসিইউ-২ ও ফিমেল ওয়ার্ডে থাকা এসিগুলোও দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় রয়েছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের রোগী আমজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, “ওয়ার্ডের প্রায় সব এসিই নষ্ট। শুধু এসি নয়, সিলিং ফ্যানগুলোও ধীরে ঘোরে। গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস করতে হয়।”

গণপূর্ত বিভাগের বক্তব্য

রংপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হৃদরোগ বিভাগের সাধারণ ওয়ার্ডে কোনো এসি নেই। তবে পেয়িং বেড, পোস্ট সিসিইউ-১, পোস্ট সিসিইউ-২ ও ফিমেল ওয়ার্ডের এসিগুলো এক বছরের বেশি সময় ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।

তবে সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের রাখার স্থানের এসিগুলো সচল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত বিভাগের এক প্রকৌশলী জানান, পেয়িং বেডের এসিগুলো গণপূর্ত বিভাগ থেকে স্থাপন করা হয়নি; হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে স্থাপন করেছে। ফ্যান ধীরে ঘোরার বিষয়টি তারা অবগত। মাঝে মাঝে এগুলো সংস্কার করা হয়।

তিনি জানান, গত বছর ১০০টি নতুন ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) অপারেশন থিয়েটারের এসি সংস্কার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে হৃদরোগ বিভাগের বিকল এসি সংস্কারের জন্য অনুমোদন চাওয়া হবে।

চাহিদা দেওয়া হয়েছে: হাসপাতাল পরিচালক

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “হৃদরোগ বিভাগের সিভিয়ার রোগীদের যেখানে রাখা হয়, সেখানে এসি সচল রয়েছে। তবে অন্য যেসব এসি নষ্ট রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগে চাহিদা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এরই মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ অপারেশন থিয়েটারের এসি সংস্কার করেছে। হৃদরোগ বিভাগের বিকল এসিগুলোও দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

হৃদরোগের মতো সংবেদনশীল বিভাগের রোগীদের জন্য দ্রুত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল করা জরুরি বলে মনে করছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হোক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments