‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেন ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ ও যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা। একই সঙ্গে পাবনা জেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এবং আশপাশের জেলার মানুষের রেল যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির রুট ও পরিচালনব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী খান মঞ্জু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পুরো জেলার মানুষের কথা বিবেচনা করেই পরিচালনা করা যৌক্তিক। ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন এবং প্রবেশদ্বার। ফলে ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশনে প্রবেশ ও এখানে যাত্রাবিরতি করলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী রেলসেবার আওতায় আসবে।
তিনি বলেন, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে ট্রেনটির প্রবেশ রেল পরিচালনাকে আরও সহজ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করবে। বিশেষ করে কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে ঈশ্বরদী অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। ট্রেনের লোকোমোটিভ বা কোচে কোনো ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে ঈশ্বরদীতে দ্রুত তা সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এতে ট্রেনের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইঞ্জিন রিভার্সসহ ট্রেন পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কার্যক্রম ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে পরিচালনাগত জটিলতা কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ রয়েছে। ফলে ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ এখানে যাত্রাবিরতি করলে যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ট্রেনে সহজে সংযোগ নিতে পারবেন। এতে শুধু ঈশ্বরদীর মানুষই নয়, পুরো পাবনা জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষও উপকৃত হবেন।
তাদের মতে, ঈশ্বরদীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বিদ্যমান রেল যোগাযোগকে কাজে লাগানো গেলে একটি সমন্বিত ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী মানুষও বিশেষভাবে সুবিধা পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন দেশের বিভিন্ন রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। রেলপথের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ঈশ্বরদীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
জনকল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের মূল উদ্দেশ্য যদি পাবনা জেলার মানুষের দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়, তাহলে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনকে এর সঙ্গে যুক্ত করা সময়ের দাবি। এতে ট্রেনটির সেবার পরিধি বাড়বে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।
তারা আরও বলেন, ঈশ্বরদী জংশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি হলে স্থানীয় যাত্রীদের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত আরও সহজ হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও তাদের স্বজন এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা সৃষ্টি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পাবনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে ঈশ্বরদীর যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না। একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশনকে ব্যবহার করে ট্রেন পরিচালনা করলে যাত্রীসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি রেল পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
তাদের ভাষ্য, রেলওয়ের পরিকল্পনা ও পরিচালনাগত বাস্তবতা বিবেচনায় ঈশ্বরদী জংশনে ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রবেশ ও যাত্রাবিরতি কোনোভাবেই অযৌক্তিক দাবি নয়। বরং এটি পাবনা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দাবি।
এ সময় ঈশ্বরদী উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির নেতারা বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পাবনা জেলার মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ এবং নিয়মিত যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঈশ্বরদী জংশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হলে এর সুফল শুধু ঈশ্বরদী নয়, পুরো পাবনা জেলা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ পাবেন। ফলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি হবে জনবান্ধব, সময়োপযোগী ও সমন্বিত রেল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



