কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মেখলী এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ও অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক এম রশিদ আলী, অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি আরজু খাতুন, ডোনেট ফর ভুরুঙ্গামারীর সদস্য চামেলী খাতুন, বড়ভিটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইলিয়াস আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মেখলী এলাকায় শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে অসংখ্য বসতবাড়ি ও আবাদি জমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের কারণে ছোট হয়ে আসছে এলাকার মানচিত্র।

তারা বলেন, ধরলার ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা এর আগেও একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে মেখলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনে শুধু মানুষের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমিই বিলীন হচ্ছে না, এর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সড়ক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার বারবার বসতভিটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের জীবন-জীবিকা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
বক্তারা অবিলম্বে মেখলী এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে ভাঙনের ভয়াবহতা নিরূপণ এবং দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নদীর তীর সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করে ধরলার ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্থানীয় জনপদ রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।



