বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, সবুজ কর, আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের বিকাশ, আর্থিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, আর্থিক প্রযুক্তির বিকাশ একদিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সবুজ অর্থায়নের নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ডরুমে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও অংশীজন সম্পৃক্ততা অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যাংকার, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম। এতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মালয়েশিয়ার ইনটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় বিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের গবেষকেরা অংশ নেন।
‘বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সবুজ কর, আর্থিক উন্নয়ন, ব্যাংকিং উন্নয়ন, আর্থিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূমিকা উন্মোচন’ শীর্ষক গবেষণাটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ারের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট সাসটেইনেবিলিটি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রযুক্তির উন্নয়ন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সবুজ অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরিতেও আর্থিক প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়ন ও দায়িত্বশীল বিনিয়োগের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
গবেষকেরা সবুজ ঋণব্যবস্থা ও টেকসই অর্থায়ন নীতি শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ঋণ প্রদান এবং সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য কার্যকর সবুজ করনীতি, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ কাঠামো এবং টেকসই অর্থায়নের উপযোগী নীতিগত পরিবেশ তৈরিতে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফলাফল শুধু একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পখাত, সরকার, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত এ ধরনের যৌথ গবেষণা বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কানিজ হাবিবা আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগের সমন্বয়কারী সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সহযোগী অধ্যাপক আতিয়া আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক সিরাজুম মনির প্রতিকসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শিল্পখাত ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আমিরুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা শেখ সোহরাব আহমেদ ও সিনিয়র কর্মকর্তা সাহেদুল বাসার, গ্রামীণফোনের রাজশাহী অঞ্চলের বিপণন বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান নাদিম শাহরিয়ার, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কর্মকর্তা তন্বী রানী দত্ত এবং সোনালী ব্যাংকের মৌগাছী শাখার ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।



