রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে আলোচিত নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) র্যাব-২ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১ জুলাই রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। ওই হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন লেদু। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির আদালতে দেওয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, বাদশাকে হত্যার জন্য মূল অভিযুক্ত পারভেজের হাতে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু।
র্যাবের ভাষ্য, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বাদশা হত্যা মামলার এই অভিযুক্ত মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অবস্থান করছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে র্যাব-২-এর একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানিয়েছে, মনোয়ার হোসেন লেদুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংক্রান্ত মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। এসব বিষয়ে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনী।
র্যাবের পিসিপিআর (পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অ্যান্ড ক্রাইম প্রোফাইল রেকর্ড) যাচাইয়ে দেখা যায়, লেদুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটটি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ছয়টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলাসহ আরও একটি অভিযোগ রয়েছে। দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলাও বিচারাধীন।



