কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় ইউসুফ হত্যার অভিযোগ, ‘২৫ লাখ টাকায় ভাড়াটে শুটার নিয়োগ’

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তার দাবি, তাকে হত্যা করতেই ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে শুটার নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলিতে নিহত হন যুবদল কর্মী ইউসুফ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হাফিজুল ইসলাম বাবু।

তিনি বলেন, গত ২৪ জুলাই রাতে মিরপুরের কাফরুল এলাকায় পরিকল্পিত হামলায় যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হাফিজুল ইসলাম বাবুর অভিযোগ, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন তিনি নিজেই। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তিনি বলেন, “আমাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে শুটার নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু অলৌকিকভাবে আমি বেঁচে যাই।”

গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত, ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা এবং জমি দখলকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করলেও হাফিজুল ইসলাম বাবু দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। তার ভাষ্য, ব্যবসায়িক বিরোধের গল্প সাজিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার নীলনকশার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি আড়ালে থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজকে সামনে রেখে কিলিং মিশন পরিচালনা করেছেন।

এ সময় তিনি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির সঙ্গে কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির একাধিক ছবি সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করেন। তার দাবি, এসব সম্পর্ক তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

তিনি বলেন, “যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে একই নেতার ছবি রয়েছে। তাহলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না কেন? হাফিজকে সামনে এনে মূল পরিকল্পনাকারীকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।”

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে হাফিজুল ইসলাম বাবু রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা হতে পারেন বলে তার ধারণা। তবে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব্বির দেওয়ান জনি। তিনি বলেন, “আমি শুরু থেকেই এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে আসছি। তদন্তে যে-ই অপরাধী প্রমাণিত হোক, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। তদন্তে যদি আমার নামও আসে, তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা আমি মেনে নেব।”

হাফিজুর রহমান হাফিজের সঙ্গে একাধিক ছবি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, হাফিজ ২০১৫ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূত্রে তার সঙ্গে ছবি থাকতেই পারে। এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments