প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনা, তদন্তের ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজিত একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সংঘর্ষের পর থেকে থেমে থেমে উত্তেজনা চলতে থাকে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রদর্শনী চলাকালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কিছু ছবি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের কর্মী মেহেদী পিঠে আঘাত পান। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই সংগঠন। ছাত্রশিবিরের দাবি, প্রদর্শনীর কোনো ছবি নিয়ে আপত্তি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানানো যেত। কিন্তু কথা বলার একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের অভিযোগ, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে ‘রাজাকারের ব্যানার’ টানানোর প্রতিবাদ করায় তাদের সহ-সভাপতি আশিককে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে শিবির ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনীতির সূচনা করেছে।
রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “সংঘর্ষের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



