নোয়াখালীর কবিরহাটে আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতাকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো দুই ভাইসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) নিহতের বোন লাভলী বেগম বাদী হয়ে কবিরহাট থানায় মামলাটি করেন। মামলার নম্বর ৪। মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি হলেন নিহতের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬)।
নিহত আজাদ হোসেন কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আজাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহের গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল। এছাড়া চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে মাদক সেবনে বাধা দেওয়া কিংবা মাদক আড্ডাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার চাচাতো ভাই ফারুক ও নিজাম বৃহস্পতিবার রাতে আজাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ডোবায় মরদেহ ফেলে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুজন পলাতক রয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, আজাদ স্থানীয় ক্লাবঘর এলাকায় ব্যবসার পাশাপাশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও তিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বোন বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।



