নাট্যদল জাগরণী থিয়েটারের ২১তম প্রযোজনা ‘কাদামাটি’র প্রদর্শনী হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটকটির মঞ্চায়ণ অনুষ্ঠিত হয়। কাদামাটি লিখেছেন অনিকেত পাল, নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ।
জীবন-জীবিকার তাগিদে কিংবা নিজের ইচ্ছে পূরণের ইচ্ছায় ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে মানুষ যখন নিজের শিকড় ছেড়ে পাড়ি জমায় অন্য কোনো মাটিতে ‘কাদামাটি’ মূলত তাদের গল্প। কাদামাটির মানুষটির চারপাশে যদিও হাজার হাজার মানুষ, তবুও এক সময় না একসময় বড্ড একা মনে হয় শিকড় ছাড়া মানুষটার। এই এত বড় বড় আলোক ঝলমলে ভবনগুলো যেন গুম করে ফেলছে তাকে, কেউ যেন তাকে দেখছে না কিংবা অনুভব করছে না।
এখানে সবাই যেন তার নিজের মধ্যেই হারিয়ে যেতে চায়। এই শহরে স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে এক সময় নিজের পরিচয়টা খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজের শিকড় যখন গাঁথা হয়ে যায় অন্য মাটিতে তখন এই শিকড়ের জন্যই ফিরে যাওয়া হয়ে উঠে না তার নিজের মাটিতে। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের গল্প।
নির্দেশক দেবাশীষ ঘোষ বলেন, আমরা যাঁরা নিজের শিকড় ছেড়ে অন্য মাটিতে শিকড়ের খোঁজ করি, কাদামাটি তাদেরই গল্প। আধুনিক জীবন, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ কিংবা শেষ বয়সে নিশ্চিন্ত জীবনÑএসবের আশায় অনেকে নিজের জন্মস্থান ছেড়ে অন্য ভূমিতে পাড়ি জমায়। যাওয়ার পর উপলব্ধি করে, ওই মাটি অনেক কঠোর আর একাকিত্বের। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এত উঁচু ভবনগুলোর মাঝখানে আমরা গুম হয়ে যাচ্ছি। এই শহরে স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের পরিচয়টা হারিয়ে যায়। নিজের শিকড়ে আর ফেরা হয় না।
নাটকটিতে এককভাবে অভিনয় করেছেন স্মরণ সাহা। সেট ও লাইট: পলাশ হেনড্রী সেন, আবহ্ সংগীত: রামিজ রাজু, পোস্টার ডিজাইন: সোয়েব হাসনাত মিতুল, প্রক্ষেপণ: শাহানা জাহান সিদ্দিকা, সাজিদ আহমেদ রনি, শ্রেয়া সাহা স্বর্ণা, ব্যবস্থাপক: বিশ্বজিৎ পাল (গৌরাঙ্গ), মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় বাহারুল ইসলাম বাহার, প্রযোজনা অধিকর্তা: আজিম উদ্দিন।



