“নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” শীর্ষক শ্লোগানে রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক), রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা ও বিভিন্ন বিভাগ, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন উৎসবমুখর পরিবেশে তিনব্যাপী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদযাপন করে।
মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রঙিন পোশাক ও বৈশাখী সাজে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। পরে সেখানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বর্ষবরণের গান, নৃত্য ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়।
পদ্মাপাড়ে বর্ণাঢ্য ঘুড়ি উৎসব
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ‘অতীতের সকল গ্লানি মুছে, নতুন আগামীর স্বপ্নকে সামনে রেখে পদ্মাপাড়ে রাজশাহী ফাউন্ডেশন বর্ণাঢ্য ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উৎসবে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা মণি-মুক্তার মতো অমূল্য সম্পদ, যা নতুন প্রজন্মের মাঝে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে কাজ করছে এবং এধরনের উৎসব অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এসময় তিনি পদ্মাপাড়ে সমবেত দর্শক-শ্রোতা ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অতিথিরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাটাই হাতে ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে অংশ নেন। এ
সময় রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


