জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ঢাকা থেকে রংপুরের লং মার্চে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তা মানা হবে না। বাধা উপেক্ষা করেই রংপুরের দিকে অগ্রসর হবেন তারা। সরকারের প্রতি জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে সরকার ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্রের দিকে’ চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের শাপলা চত্বরের দলীয় কার্যালয়ে ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধন করে তা জনগণের ওপর চাপিয়ে ক্ষমতায় বসে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি সরকারের প্রতি জনগণের কথা শোনার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলটি ২৬৫টি আসন পেয়েছিল এবং পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে শেখ হাসিনার সরকারের মতো অবহেলা করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দাবি না মানলে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। দেশবাসীকে দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চ সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আগামী সংসদে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে শপথ নিতে হবে অথবা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়।
দেশের তেল ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তেলের সংকটের সময় সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে বৈঠক করে দুই দিনের মধ্যে তা সমাধান করেছিল। বিদ্যুৎ সংকটের সময়ও জামায়াতের আমীর সরকারি ও বিরোধী দলকে নিয়ে সংকট সমাধানের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে পাস হওয়া আইনটি ইসলামী শরিয়াহবিরোধী। সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে বলে দাবি করেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘লং মার্চের দাবিগুলো জামায়াতের নয়, এগুলো জনগণের।’ তাই কর্মসূচিতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী, জামায়াতের দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মহানগর জামায়াতের আমীর এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যরা।
লং মার্চের কর্মসূচি
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবিতে শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হবে।
কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়ক, সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস সড়ক, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথা মোড়ে পথসভা হবে। রাত ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশ সফল করতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা জুড়ে মাইকিং, তোরণ নির্মাণ এবং দেয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানার-পোস্টার টাঙিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে।



