শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের (পিএসএস) সম্মেলনকক্ষে গবেষণা উদ্যোগ ‘ইলেকশন ল্যাব’-এর আয়োজনে মঙ্গলবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১১ টায় টায় ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জেন-জি’র নির্বাচনী রাজনীতি: নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণদের ভিন্নধর্মী ফলাফল’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. আলী রেজা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সাহাবুল হক।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইলেকশন ল্যাবের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ এমদাদুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে ড. এস. এম. আলী রেজা বলেন, নেপালে জেন-জি’দের লক্ষ্য ছিলো স্থির, যার ঘাটতি বাংলাদেশে পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়াও ৫ আগষ্টের নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নানাবিধ বিতর্কের জন্ম দেয়। যা জাতিকে আশাহত করে। এর প্রভাব পড়ে ত্রয়োদশ নির্বাচনের উপর।
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের জনগণকে ‘দ্বিধাগ্রস্ত গণতন্ত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, এসব মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগতসহ আরও নানা কারণে বাংলাদেশে নেপালের মতো ফলাফল আসেনি।
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তৎকালীন প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার’ ঠিক করতে পারেনি। উপদেষ্টাদের অনেকের মধ্যেই রাজনৈতিক অভিপ্রায় দেখা দিয়েছিল, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তার উদ্রেক করে। এছাড়াও তিনি জেন-জি আন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দল ‘এনসিপি’-এর রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ইলেকশন ল্যাব-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সাহাবুল হক বলেন, জুলাই ছাত্র-গনঅভ্যুত্থান তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের খপ্পরে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে।
এদের কেউ কেউ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ রাষ্ট্রের বড় বড় লোভনীয় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। যা ছাত্র-গনঅভ্যুত্থানের মোটিভ বদলে দিয়েছে।
কিন্তু নেপালে, জেন-জিদের লক্ষ্য ছিলো স্থির, যার ফলে তারা জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া উক্ত বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সামগ্রিকভাবে সেমিনারে বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’র ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে নেপাল ও বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ, তাদের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব এবং এর ফলে তৈরি হওয়া ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ফলাফল ও সমীকরণ নিয়ে তাত্ত্বিক ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।



