সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী, চলন বিল ও জেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া নদ নদী গুলি বন্যার পনিতে পরিপূর্ন। মৎস্যভান্ডার খ্যাত জেলার যমুনা নদী চলন বিলসহ নদ-নদী, খালে অবাধে চলছে দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ নিধন। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে মৎস সপ্তাহেও স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব মাছ।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল-বিকাল বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ বিক্রি হচ্ছে। মাছগুলো নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জাল, বাদাই জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শিকার করা। বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার নদী, খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ ধরার উৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ মৎস্য বিভাগের উদাসীনতা ও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না থাকায় চলছে মা ও পোনা মাছ শিকার । এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষিদ্ধ কারেন্ট, বাদাই ও চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে দেশীয় প্রজাতির টেংরা, বোয়াল, শিং, কৈ, পুটি, রুই, কাতলা, বাতাশী, ডিমওয়ালা মা মাছসহ পোনা মাছ নিধন করছে। এতে অস্তিত্ব সংকটে দেশীয় মাছ।
জেলার হাটে বাজারে বোয়াল মাছের পোনা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০/৬০০ টাকা, শিং ৪০০/৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।, দেশি কৈ ৫০০, বাইন ১০০০/ ১২০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে বর্ষা শুরু হলে জুলাই-আগস্ট মাসে জেলার নদী, খাল, বিল উন্মুক্ত জলাশয়ে মা মাছ ডিম ছাড়ে। এ সময় এসব মাছ ধরা একেবারেই নিষিদ্ধ। মৎস্য আইন অনুযায়ী যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। কিন্তু কেউ আইনের তোয়াক্কা করছে না। এভাবে ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন করার ফলে মৎস্য ভান্ডার খ্যাত জেলা থেকে দেশী জাতীয় মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে ।
সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহীনূর রহমান জানান, মা ও পোনামাছ সংরক্ষন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারনা চলছে। নিয়মিত বাজার পরিদর্শন, ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা, জাল জব্দ করা হচ্ছে। মৎস বিভাগ নিষিদ্ধ কারেন্ট, বাদাইসহ সোঁতি, চায়না দুয়ারি জালে মাছ শিকার বন্ধে বদ্ধপরিকর। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



