ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাই: আবু সাদিক কায়েম

ডাকসু নির্বাচনে ইসলামি ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে একটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাই। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভাবনা তুলে ধরেন।
নিজেদের প্যানেল সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের প্যানেলে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছি। আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্তদের পাশাপাশি সংগঠনের বাইরে যেসব শিক্ষার্থী নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মতের অমিল থাকলেও যে একসাথে কাজ করা যায় এই বার্তাই তুলে ধরতে আমরা এমন বৈচিত্রময় প্যানেল গঠন করেছি। এই প্যানেলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, উপজাতি (চাকমা) শিক্ষার্থী, নারী শিক্ষার্থী, জুলাই বিপ্লবের তরুণ যোদ্ধা, ক্রীড়াবিদ ও গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হোক সবার বিশ্ববিদ্যালয়; যেখান থেকে গড়ে উঠবে সবার বাংলাদেশ।
নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের থেকে আমরা আশানুরূপ থেকেও বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমাদের মেনিফেস্টোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার ওপর। এর মধ্যে রয়েছে গার্ডিয়ান লাউঞ্জ, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন, ডে কেয়ার সেন্টার, রাতের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, নারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ইত্যাদি। আমরা একটি নারীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে চাই। ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সফলতার অন্যতম কারিগর ছিলেন আমাদের ছাত্রী বোনেরা। তাদের সাহসী অবদান ও দুর্নিবার নেতৃত্ব আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। তাই আমরা চাই নারীদের পথ আরও মসৃণ হোক, তারা যেন নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে এগিয়ে যেতে পারেন।
শিক্ষকদের নিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই, শিক্ষকেরা যেন দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করে কেবল শিক্ষক হিসেবেই থাকেন। যদি তারা কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেন, তবে সেটা আসলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে, যা আমরা একেবারেই চাই না।
ডাকসু নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের অন্যতম দাবি ছিল ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদের নির্বাচন। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ড আমাদের উদ্বিগ্ন করছে। তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ছে। আমরা সবসময় শিক্ষকদের শিক্ষক হিসেবেই দেখতে চাই, কিন্তু তারা যেন কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা না দেন।
নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্ববিদ্যালয় কেমন সংস্কার কাজ করবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে একটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি থাকলেও তা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও একাডেমিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবে না। শিক্ষক নিয়োগ হবে স্বচ্ছ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, পাঠমূল্যায়ন ও গবেষণার মান উন্নত করা হবে। গবেষণার জন্য বাজেট বাড়ানো হবে এবং শিক্ষার্থীদেরও সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ওয়েবসাইটে ফ্রি এক্সেস পাবে। শিক্ষকরা পদোন্নতি পাবেন কেবল গবেষণার ভিত্তিতে, রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত। একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত হলে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য, পরিবহন ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের মতো সমস্যাগুলোও সহজে সমাধান সম্ভব হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments