ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হবে ভোটগ্রহণ। প্রার্থীরা বিভিন্ন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার প্রচারণা। এরই মধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদের বিষয়ে নিয়ে রিট করা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রিট করা নারী শিক্ষার্থী ও নির্বাচনের প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলমকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন আলী হুসেন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী, থাকেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। যদিও পরবর্তীতে আলোচনা-সমালোচনার মুখে রাতে ফেসবুকের এক লাইভে এসে ক্ষমা চায় এই শিক্ষার্থী। এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এছাড়াও দৃষ্টিান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এই ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ঢাবির হলগুলোতে বহিরাগতদের অবস্থান করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেছে নিচ্ছেন নানা অভিনব কৌশল। প্রচলিত পোস্টার-লিফলেটের বাইরে গিয়ে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সৃজনশীল ধারা, যা নির্বাচনী প্রচারণাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। প্রচারণার আলোচনায় সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে ব্যালট নম্বরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কৌশল তৈরি। ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার সঙ্গে নম্বর মিলিয়ে তার প্রতীকী ব্যবহার করছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরছেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে।
প্রচারণায় লিফলেট ও পোস্টারেও এসেছে অভিনবত্ব। অনেক প্রার্থী টাকার আদলে লিফলেট ছাপিয়ে ভোটারদের হাতে দিচ্ছেন। কেউ কেউ দিচ্ছেন বুকমার্ক, আবার কেউ চিঠির খাম সাজিয়ে চিঠির আদলে লিফলেট তৈরি করেছেন। কেউ বানিয়েছেন ইউরো বা মার্কিন ডলারের মতো লিফলেট, যেখানে সংখ্যার জায়গায় বসানো হয়েছে তাদের ব্যালট নাম্বার। এছাড়াও বাস বা ট্রেনের টিকিটের আদলে লিফলেট, পত্রিকার আদলে লিফলেট কিংবা প্রতীকী লিগ্যাল নোটিশ তৈরি করেও প্রার্থীরা ভোট চাইছেন। এছাড়াও লিফলেট ও পোস্টারে যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড, যা স্ক্যান করেই ভোটাররা জানতে পারছেন প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। প্রযুক্তির এই ব্যবহার ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। অন্যদিকে কেউ গান গেয়ে প্রচারণায় সাড়া ফেলছেন, আবার কেউ এক বছর বিনামূল্যে ইংরেজি শেখানোর ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহারও এই নির্বাচনে বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণার জন্য নানান ধরনের মিমস ভিডিও তৈরি করছেন। এসব ভিডিওতে ব্যালট নম্বর মনে রাখার কৌশল, নির্বাচনী ইশতেহার, কিংবা শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সমাধানের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের আদলে ভিডিও বানিয়ে সাড়া জাগাচ্ছেন, যাতে ভোটারদের মনোযোগ সহজে কাড়া যায়।
পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে ব্যতিক্রমী প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছেন কেউ কেউ। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, প্রচারণায় কোনো পোস্টার বা লিফলেট ব্যবহার করবেন না। পরিবর্তে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছাবেন। অভিযোগ ও পরামর্শ গ্রহণের অভিনব কৌশলও দেখা যাচ্ছে প্রচারণায়। কোথাও রাখা হয়েছে অভিযোগ-পরামর্শ বাক্স, যেখানে ভোটাররা লিখিতভাবে তাদের প্রত্যাশা বা অভিযোগ জমা দিতে পারছেন। সব মিলিয়ে ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে প্রার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অভিনব কৌশলের মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ কাড়তে সচেষ্ট।
ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ:
এদিকে রিট করা নারী শিক্ষার্থী ও নির্বাচনের প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলমকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ঢাবি শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাবির টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং এর সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রশাসন নিয়োগ হয়েছে সেই প্রশাসনকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। সেই প্রশাসনকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বার বার স্মারকলিপি প্রদান করছি। এই রকম নারী নিপীড়নমূলক কথা বার্তা মেয়েদের নিয়ে সব সময় চলে আসছে। আমর একের পর এক স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয় নি দেখে আলী হোসেন গণধর্ষণের হুমকি দিয়েছে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীর উপর। এর দায় এই প্রশাসন এড়াতে পারে না।
ডাকসু নির্বাচনের ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আমাদের নারী বোনদেরকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি নারী হেনস্তাকারীদের যখন জেল থেকে ছাড়ানো হলো, তখন একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী তাদেরকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছে, যা একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। এরই ফলশ্রুতিতে গতকাল আলী হুসেন নামে এক শিক্ষার্থী তার মেয়ে সহপাঠীকে গণধর্ষণের পদযাত্রার হুমকি দিয়েছে। অথচ, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এবং ঢাবি প্রশাসন তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বিচারের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের:
একই দাবিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিট করা একজন নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের হুমকিদাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এছাড়া এই নির্বাচন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ১৩টি দাবিও জানিয়েছেন তারা।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হাইকোর্টে একজন প্রার্থীর রিটের বিষয়কে কেন্দ্র করে সেই নারী প্রার্থীকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে গণধর্ষণের হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে। হুমকিদাতা আলী হুসেনকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
আরও বলা হয়, কোনো বিধি লঙ্ঘনের জন্য নির্ধারিত শাস্তি কী, তা কোথাও উল্লেখ না থাকায় ঢালাওভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হলেও কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অন্যের ওপর দায় না চাপিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: ছাত্রশিবির
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে রিট করা একজন নারী শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় অন্যের ওপর দায় না চাপিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রশিবির–সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবু সাদিক।
গতকাল দুপুরের দিকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
আবু সাদিক বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বিচারের কথা বলায় অন্যরা তাঁদের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন। এ কারণে অন্যের ওপর দায় না দিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দায় দেওয়ার রাজনীতি চলছে উল্লেখ করে আবু সাদিক বলেন, গতকাল (সোমবার) রিটকারী শিক্ষার্থীকে আলী হুসেন নামের এক শিক্ষার্থী গণধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। ফেসবুকে দেখা গেছে, আলী হুসেন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁদের মনে হচ্ছে, ছাত্রদল তাদের অপরাধের দায়মুক্তির জন্য অন্যের ওপর দায় দেওয়ার রাজনীতি করছে। যে অপরাধী সাইবার বুলিং করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সবাইকে একমত থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।
ছাত্রীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন:
ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে রিট করা এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় তিন সদস্যের এবং ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন দুই সদস্যের তথ্যানুসন্ধান কমিটি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণধর্ষণের হুমকির ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী এস এম ফরহাদ এবং ‘অপরাজেয় ৭১ অদম্য ২৪’ প্যানেলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী নাইম হাসানের লিখিত অভিযোগ দেন। এর ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কার্যালয় ৩ সদস্য বিশিষ্ট বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ মাহবুব কায়সারকে আহবায়ক এবং সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূইয়া ও মো. রেজাউল করিম সোহাগকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
একই ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের আরেকটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি করেছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কমিশন। এই কমিটিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হককে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর জাহাঙ্গীর আলমকে সদস্য করা হয়েছে। তাদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।
নির্ধারিত সময়ে ডাকসুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি:
নির্ধারিত সময়ে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জামালুদ্দিন খালিদ ও বিন ইয়ামীন মোল্লা সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে তারা অবস্থান নেন। এ সময় একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অবস্থান কর্মসূচিতে দেখা গেছে। উপস্থিত আন্দোলনকারীরা ৯ তারিখের মধ্যে ডাকসু দেওয়ার জোর দাবি জানান এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসনমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় ভিপি প্রার্থী বিন ইয়ামীন মোল্লা বলেন, আপনারা শিক্ষার্থীদের দোদুল্যমান রাখছেন। আওয়ামীলীগের সময় হাইকোর্টকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হয়েছে। এখনো যদি ব্যবহার করা হয়, তাহলে কী আমরা এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলব?
তিনি বলেন, ডাকসু দেশের মানুষের আস্থার জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জায়গা। সে জায়গা থেকে মোটেও এই বিষয়গুলো কোনো স্বাভাবিক ঘটনা না।
হলগুলোতে বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা:
এদিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে কোনো বহিরাগত বা অতিথি অবস্থান করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল ডাকসু চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ উপলক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলে ২ সেপ্টেম্বর থেকে বহিরাগতদের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ থাকবে। শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ হলে অবস্থান করতে পারবে না।



