৭১ বছরের ইতিহাসে ঢাবিতে নজিরবিহীন ছুটি

নজিরবিহীন ছুটির কবলে পড়েছে ডাকসু নির্বাচন । বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৮ দিন বন্ধ থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । ছাত্রসংগঠনগুলের তীব্র আপত্তির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছুটি ৪ দিন থেকে একদিন কমিয়েছে কতৃপক্ষ । ছাত্রসংগঠনগুলো এ ঘটনাকে ডাকসু ৭১ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে । তারা দাবি করেছেন ১৯৮০ সালে এএফ রহমান হলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর ভোটের আগের দিন মাত্র ১ দিনের ছুটি দিতে হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে । ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, ভোটার উপস্থিতি কমাতে এবং একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৪ সালে প্রথম নির্বাচন হয় ডাকসুর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যে নির্বাচনী আমেজে সরগরম হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। প্রথমে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। এর ফলে ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটি এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৯ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা ছিল।
এ নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্যানেল ও ছাত্র সংগঠন আপত্তি জানায়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন কমিশনের নিকট লিখিত অভিযোগ ও জমা দেয়। তাদের অভিযোগ , দীর্ঘ ছুটি পেলে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছেড়ে তাদের গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও কিছু শিক্ষার্থী দীর্ঘ ছুটি পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবকাশ যাপনে যাওয়ারও একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনিয়ে আলোচনা সমালোচনার মুখে মাত্র একদিন ছুটি কমায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আপত্তির মুখে ছুটি কমানো হলেও অনেকেই মনে করছেন, ভোটার উপস্থিতি কমানোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি বিশেষ দলের কিছু নির্দিষ্ট ভোট রয়েছে। তারা যেকোন মূল্যে ভোটে অংশ নিবে। কিন্তু সাধারণ ছাত্র যারা বিশেষ করে যারা হলের বাইরে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে দীর্ঘছুটি তাদের ভোটের প্রতি অনাগ্রহ তৈরী করতে পারে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যারয় বন্ধ থাকলে নির্বাচনের যে আমেজ সেটিও তৈরী হবে না।
এবিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মনোনীত ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কারো সাথে আলোচনা করা ছাড়াই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দূর্বিসন্ধি রয়েছে। আমরা এটা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা জানিয়ে এসেছি। তারা সেটা আমলে নেয়নি।
তিনি বলেন, একটি ছাত্রসংগঠন প্রসাশনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের সাথেও তাদের একটি যোগ সংযোগ রয়েছে। তাদের সুবিধা প্রদানে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের কিছু ফিক্সড ভোট আছে। তাদের ফিক্সড ভোটগুলো তো আর কোথাও যাবে না। কিন্তু দীর্ঘ ছুটিতে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা গ্রামে কিংবা ক্যাম্পাস ছাড়ার পরিকল্পনা করছে,যেহেতু অনেকদিন বিশ্ববিদ্যালয় লম্বা কোন ছুটি ছিলো না। সুতরাং নিজেদের ভোটগুলো ঠিক রেখে বাকি শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টা একটি বিশেষ গোষ্ঠী চালিয়ে যাচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারি হামিম বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন একটি উৎসব মুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে হওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেও অথচ তারা এ বিষয়ে কোন আলোচনার প্রয়োজনবোধ করেনি। সব সংগঠন দাবি জানালেও অজানা কারনে তারা দীর্ঘ ছুটি রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যা সন্দেহজনক। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের ইশারায় পরিচালিত হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments