ট্যানারি বর্জ্য থেকে জেলাটিন ও প্রোটিন বানাবে চীনা প্রতিষ্ঠান

সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে জমে থাকা ট্যানারির কঠিন বর্জ্য থেকে জেলাটিন ও শিল্প-প্রোটিন পাউডার উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে একটি চীনা কোম্পানি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার টন পণ্য চীন ও রাশিয়ায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
‘বাংলাদেশ জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন কোং লি.’ নামের এই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সাভারের নয়ারহাট এলাকায় নয় একর জায়গায় কারখানা গড়ে তুলেছে। সেখানে এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপনসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চামড়ার উচ্ছিষ্ট অংশ থেকে জেলাটিন উৎপাদন চলছে। পাশাপাশি শিগগিরই তারা ক্রোম-শেভিং ডাস্ট থেকে শিল্প-প্রোটিন পাউডারও উৎপাদন করবে। কোম্পানিটি চীনের ওয়েনঝু ইউয়ানফেই ও পিয়ংইয়াং গ্রুপের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উৎপাদিত শিল্প-প্রোটিন পাউডার চামড়া নরম করার কাজে ব্যবহার করা যাবে, আর জেলাটিন কাজে লাগবে ওষুধের ক্যাপসুল তৈরিতে। বর্তমানে এসব পণ্য বাংলাদেশে আমদানির ওপর নির্ভরশীল হলেও এখন তা দেশের ভেতর থেকেই উৎপাদিত হবে এবং রপ্তানিও করা যাবে।
গত এপ্রিলে কোম্পানিটি ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট কোম্পানির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন ধাপে ধাপে পুরো ক্রোম শেভিং ডাস্ট সংগ্রহ করবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে যেসব বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হতো, সেগুলো এখন উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হবে।
তিনি আরও জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ট্যানারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান হবে। আগে এসব বর্জ্য অবৈধভাবে পোলট্রি ও মাছের খাবারে ব্যবহার করা হতো, যার মাধ্যমে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করত। নতুন উদ্যোগে সেই ঝুঁকি আর থাকবে না।
জেডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিনের কর্মকর্তা পারভেজ খান বলেন, যেসব বর্জ্য পরিবেশের জন্য হুমকি, সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করলে শুধু নতুন পণ্যই পাওয়া যাবে না, বরং অপব্যবহারও বন্ধ হবে। এতে ট্যানারি খাতের সুনাম বাড়বে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জনের পথে অনেক এগিয়ে যাবে।
সাভার শিল্পনগরীতে প্রতিবছর প্রায় আট থেকে নয় হাজার টন ক্রোম-শেভিং ডাস্ট জমে থাকে। কিন্তু ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের পরও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে একদিকে পরিবেশ দূষণ বেড়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদ- পূরণে বড় বাধার মুখে পড়েছে ট্যানারি খাত।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments