শীতের মৌসুম আসতে এখনও অনেক বাঁকি,কিন্তু বগুড়ার আগাম জাতের সবজি চারা উৎপাদন করতে মাঠে দিনরাত কাজ করছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নার্সারি মালিকরা। উপজেলার বড়পাথার ও শাহনগর গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক কৃষক নার্সারির মাধ্যমে আগাম জাতের সবজির চারা উৎপাদন করছেন। এসব নার্সারিতে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিপণন হয়ে থাকে। দেশের প্রায় ৪৫টি জেলায় এই চারা বিক্রি হয়ে থাকে।
সবজির চারা উৎপাদনকারী গ্রাম বলে খ্যাত বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর ও বড়পাথার গ্রাম। বর্তমানে শাহনগর, বড়পাথার, চুপিনগর, দুরুলিয়া, বৃ-কুষ্টিয়া, খোট্রাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামজুড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০০টি ছোট বড় নার্সারি। এখানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, পেঁপেসহ হাইব্রিড জাতের ৮ থেকে ৯ রকমের মরিচের চারা উৎপাদন করা হয়। তবে সবজির চারা গ্রামের মূল চারা হিসেবে বিক্রি হয় মরিচ চারা। হাইব্রিডসহ একাধিক জাতের মরিচের চারা বিক্রয় হয় এখানে। নার্সারি পল্লীতে কৃষকদের পদচারণায় এখন মুখর। কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ বীজ বপন করছেন, কেউ বীজ বপনের পর পরিচর্যা করছেন। আবার কেউ চারা বিক্রি করছেন। সারাবছর এখানে চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর গ্রামে চাষিরা ৩০ থেকে ৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০০টির বেশি নার্সারিতে এসব চারা উৎপাদন করে যাচ্ছেন। চলতি রবি মৌসুমে ৫০ কোটি টাকার আগাম জাতের সবজির চারা বিক্রির আশা নার্সারী মালিকরা। এখানকার চারার গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের সমাগম ঘটে।
দুরুলিয়া গ্রামের আনোয়ার নার্সারীর মালিক আনোয়ার জানান, প্রতিদিন খুব ভোর থেকেই নার্সারীপল্লীতে শুরু হয় মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা, অটোভ্যানের আনাগোনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চারা নিতে আসা চাষীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নার্সারীপল্লী। এছাড়াও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দেশের দূরের জেলাগুলোতে কুরিয়ারেও পাঠানো হয় বিভিন্ন জাতের সবজি চারা।
নার্সারি মালিক আমজাদ হোসেন জানান, গত ৩০ বছর আগে স্বল্প পরিসরে সবজি চারা উৎপাদন হতো এই এলাকায়। কিন্তু এখন উপজেলার কামারপাড়া, মোস্তাইল ও শাহনগরের অঞ্চল জুড়ে সবজি চারার চাষ করছেন নার্সারি মালিকরা। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে চারা উৎপাদনে খরচ হয় ২ লাখ টাকা। আর এই চারা বিক্রি করা হয় ৪ লাখ টাকায়। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে চাষিদের লাভ ভালো হয়।
চারা কিনতে আসা শাজাহানপুর উপজেলার চন্ডিবর গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর জানান, এখানকার চারার গুণগতমান অনেক ভালো। ফলনও ভালো হয়। তিনি গত বছর ১৫ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের মরিচের আবাদ করেছিলেন। ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি আড়াই লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে তিনি আবারো নার্সারি পল্লীতে থেকে চারা কিনতে এসেছেন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, জেলার শাজাহানপুর উপজেলার শাহনগর গ্রামে চাষিরা ৩০ থেকে ৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০০টির বেশি নার্সারিতে আগাম সবজির চারা উৎপাদন করে যাচ্ছেন। এখান থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা চারা কিনতে আসেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।



