রংপুরে জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ভাগ কৃষিখাতে বরাদ্দসহ ১১ দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষকফ্রন্ট রবিবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও লালপতাকা মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর জেলা বাসদ আহবায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস,মিঠাপুকুর উপজেলা সংগঠক আতিয়ার রহমান, জেলা সাধারণ সম্পাদক অমল সরকার প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এখনও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কৃষি । মোট শ্রম শক্তির ৪৪ ভাগ কৃষিতে যুক্ত। রাষ্ট্র ও সরকারের চরম অবহেলার পরেও একক খাত হিসেবে কৃষি জিডিপিতে ১১
শতাংশ অবদান রাখছে। দেশের রপ্তানি খাতে কৃষি পণ্যের ভূমিকা ৭%। কৃষিতে ১% প্রবৃদ্ধি ঘটলে ৩% বেকারত্ব কমে। কৃষি-মৎস্য, প্রাণিজ ও খাদ্য মন্ত্রণালয় মিলে বাজেটে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ৫%। শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ মাত্র ৩.২১%।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে কৃষি ঋণ মোট ঋণ বিতরণের মাত্র ৩.৩৬%। বীজ-সার নিয়ে দুর্নীতি, ভেজাল সার, নিম্নমানের বীজ, কীটনাশকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। বীজ-সার, কীটনাশক-সেচসহ কৃষি উপকরণের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
সরকারি ক্রয়কেন্দ্র, প্রয়োজনীয় সরকারি হিমাগার-সাইলো ও সংরক্ষণাগার না থাকায় কৃষক মৌসুমে ফসল ওঠার পরই কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্যে লাভজনক দাম না পেয়ে কৃষক সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
ধানের দাম সরকার প্রতিমণ ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও ভরা মৌসুমে কৃষক প্রতিমণ ৭০০- ৮০০ টাকার বেশি বেঁচতে পারছে না। আবার ভোক্তাদেরও চড়া মূল্যে চাল কিনে খেতে হচ্ছে। চড়াসুদে এনজিও-মহাজনি ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।
এ চক্রে মাঝারি কৃষক ক্ষুদ্র কৃষকে, ক্ষুদ্রকৃষক প্রান্তিক কৃষকে এবং প্রান্তিক কৃষক ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে। এভাবে বছরে অন্তত ১১ লাখ কৃষক ভূমিহীনে পরিণত হয়। বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্ষেত মজুরদের ৩ মাসের বেশি কাজ না থাকা, শিক্ষা-চিকিৎসা ব্যয় দরিদ্র-নিম্নবিত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সামাজিক সুরক্ষাধাতে অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দ, অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি-দলীয়করণে প্রকৃত হকদার বাদ পড়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে পারে না। রাষ্টপ্রধান প্রায়শই বলেন,সবার আগে বাংলাদেশ। কৃষি-কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ না করে বাংলাদেশ ধারণ করা সম্ভব নয়।
নেতৃবৃন্দ আসন্ন বাজেটে কৃষিখাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ ভাগ বরাদ্দ করে বিএডিসি কে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর, কৃষকদের বিনাসুদে কৃষিঋণ প্রদান,ভেজাল ও মানহীন বীজের সরবরাহ বন্ধ, কৃষি উপকরণের দাম কমানো, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে খোদ কৃষকদের কাছ থেকে ফসল ক্রয়, শস্যবীমা চালুসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।



