অবৈধ ডিপ টিউবওয়েল বন্ধের নির্দেশ বিএমডিএ’র

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন এলাকায় কোনো অবৈধ ডিপ টিউবওয়েল চালু রাখতে দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে পরিচালিত সব ডিপ টিউবওয়েলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সেচ কমিটির সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন সেচ মৌসুম শুরুর আগেই বিএমডিএর বন্ধ থাকা সব ডিপ টিউবওয়েল সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিএমডিএ প্রধান কার্যালয়ে রাজশাহী সার্কেলের মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম খান এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট জোনের সহকারী প্রকৌশলীরা অংশ নেন।

আসন্ন সেচ মৌসুম সামনে রেখে সভায় ডিপ টিউবওয়েলগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ডিপ টিউবওয়েল বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক বলেন, কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করা বিএমডিএর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেচ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না। কমান্ড এলাকার মধ্যে অবৈধ ডিপ টিউবওয়েলের কারণে যাতে বৈধ সেচ ব্যবস্থা ও কৃষকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিএমডিএর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সেচব্যবস্থা আরও টেকসই, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে বিদ্যুৎনির্ভরতা কমিয়ে ডিপ টিউবওয়েলগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসব সেচ পাম্পে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।

সভায় কৃষক পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, সমস্যা দ্রুত সমাধান, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, কাজের মান বজায় রাখা এবং সেবামূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা, পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং বিএমডিএর সেবার পরিধি সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

সভায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাশেম, সচিব মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, এটিএম মাহফুজুর রহমান, শিবলী আহমেদ, জিন্নুরাইন খান, মোছা. রুবিনা খাতুন, মনিরুজ্জামান মনির, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির, হারুন-অর-রশীদ, তৌফাজ্জল আলী সরকার, তারিকুল ইসলাম, এসএম দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শুরুর আগে বিএমডিএর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামানসহ প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments