বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে নেওয়া ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ আওতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে ওঠা সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। এ সময় সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জানা গেছে, চাকরির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের দক্ষ, কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যেই সঞ্জীবন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সঞ্জীবন প্লাটুন গঠনের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বাহিনীর বিশাল স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে উৎপাদন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আনসার-ভিডিপির সদস্যদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত সাংগঠনিক উপস্থিতিকে এ খাতের সঙ্গে সমন্বিত করা গেলে তৃণমূলে উৎপাদন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যরা উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, গাড়ল ও ভেড়া পালন এবং বিভিন্ন জাতের মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারেন। দলগত উদ্যোগে এসব খামার পরিচালনার মাধ্যমে দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পশুখাদ্য ব্যবহার এবং সঠিকভাবে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের বিষয়েও সদস্যদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
এ ছাড়া মাছ চাষ, সমন্বিত মৎস্য চাষ ও মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের স্থানীয় নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার করা সম্ভব। এ জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সঞ্জীবন প্রকল্পকে কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ, ঋণ, উৎপাদন উপকরণ, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসংযোগ—এই পাঁচটি বিষয় সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে সদস্যরা টেকসইভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারবেন।
আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের পরিবারকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। সঞ্জীবন প্লাটুনের মাধ্যমে মৎস্য, দুগ্ধ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত সহযোগিতায় সঞ্জীবন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।



