উচ্চ-মূল্যের পণ্যের দিকে চীনের কৌশলগত পরিবর্তন এবং চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও চায়না শুল্ক উত্তেজনার কারনে গত ১৫ মাসে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)’য় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চায়না। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৬টি চায়না প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যা থেকে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৫৮ হাজার লোকের।
বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৯টি বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ২৬টি পুরোপুরি চীনা মালিকানাধীন। এই ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া আরো চারটি কোম্পানি চায়না সঙ্গে যৌথভাবে চুক্তি করেছে। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশি কোম্পানির সঙ্গেও যৌথ উদ্যোগ রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অ্যান্থেন্টি বাল্ক ব্যাগ লিমিটেড; বাংলাদেশ হাইজিনটোন হেয়ার প্রোডাক্টস কো. লিমিটেড; সেফটি গার্মেন্টস বিডি কো. লিমিটেড; নিউটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেড; গোল্ড এম্পেরর (বিডি) লিমিটেড; কিংদাও ডংফাং প্যাকেজিং টেকনোলজি লিমিটেড; হান্ডা (বাংলাদেশ) গার্মেন্টস কো. লিমিটেড; বাইশিলি হাউসহোল্ড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ কো. লিমিটেড এবং ডুনিয়ন তাইয়াং শেং শুজ (বিডি) কো. লিমিটেডসহ ২৬টি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগষ্ট হতে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চুক্তিবন্ধ হয়েছে। এর পুরোপুরো ২৬টি চায়না প্রতিষ্ঠান যুক্ত, এছাড়া একটি চীন-ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস কোম্পানি, একটি চীন-সিঙ্গাপুর কোম্পানি এবং একটি চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি বিইপিজেডএ অঞ্চলে বিনিয়োগ করেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, চীন ধীরে ধীরে কম-মূল্যের, শ্রম-নির্ভর শিল্প থেকে উচ্চ-মানের, প্রযুক্তি-চালিত উৎপাদনে সরে আসছে। তারা আরও যোগ করেন, চীনে মজুরি বৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রচলিত উৎপাদন ইউনিটগুলো বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো সাশ্রয়ী গন্তব্যে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বিইপিজেডএ)’র নির্বাহী পরিচালক এএসএম আনোয়ার পারভেজ ইত্তেফাককে বলেন, ‘চীনা বিনিয়োগগুলো আসছে পোশাক, জুতা, গৃহস্থালি পণ্য, আনুষঙ্গিক সামগ্রী, ব্যাটারি প্লেট, ক্যাম্পিং আইটেম এবং নিরাপত্তা সামগ্রীর মতো বিভিন্ন খাতে। গেলো বছরে জুলাইতে যারা চুক্তি করেছে তাদের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
আনোয়ার পারভেজ আরো বলেন, আগে আমরা বেশিরভাগই জুতার আনুষঙ্গিক সামগ্রীতে বিনিয়োগ দেখতাম, কিন্তু এবার আমরা সম্পূর্ণ জুতা উৎপাদনে বিনিয়োগ পাচ্ছি। এটা দেশের জন্য ভালো। আমরা আশা করছি এই বছরেই আরো বেশি কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে চুক্তিবন্ধ হবে।
তথ্যমতে, ডুনিয়ন তাইয়াং শেং সুজ (বিডি) কোং লিমিটেড বিইপিজেডএ এ প্রতি বছর ২ দশমিক ১ মিলিয়ন জোড়া জুতা তৈরির জন্য ১০ দশমিক ২ মিলিয়ন বিনিয়োগের চুক্তি করেছে। বাইশিলি হাউসহোল্ড প্রোডাক্টস বাংলাদেশ কোং লিমিটেড গৃহস্থালি পণ্য ও ব্যাগ তৈরির জন্য বিনিয়োগ করবে প্রায় ১০ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন।
২০২২ সালে ৬০ মিলিয়ন বিনিয়োগ করা খাইশি গ্রুপ ২০২৫ সালে আরো ৪০ মিলিয়ন বিনিয়োগ করে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এই বিনিয়োগে তারা প্রতি বছর ২০ মিলিয়ন পিস অন্তর্বাস তৈরি করবে।
হান্ডা (বাংলাদেশ) গার্মেন্টস কোং লিমিটেড একটি বৃহৎ আরএমজি কারখানায় ৪১ দশমিক ৩ মিলিয়ন বিনিয়োগ করছে, যা থেকে ৭২ দশমিক ১ মিলিয়ন উচ্চ-মূল্যের পণ্য উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিইপিজেডএ কর্মকর্তারা জানান, বেশিরভাগ ইপিজেড প্রায় পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের জায়গা করে দিতে মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত বিইপিজেডএ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এবং মংলা ইপিজেড ও অন্যান্য স্থানে সীমিত জায়গা দেওয়া হচ্ছে। বিইপিজেডএ ছাড়াও, চীনা কোম্পানিগুলো অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমেও বিনিয়োগ করছে।



