আন্দোলন দমাতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর গুলি ছুড়েছে ৩ লাখ রাউন্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দমাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ব্যবহার করা হয়েছে এলএমজি, এসএমজি, চাইনিজ রাইফেল, শর্টগান, রিভলবার ও পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের মরণাস্ত্র। ছোড়া হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি। যার মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকায় ছাত্র-জনতার উপর গুলি ছোড়া হয়েছে ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেওয়া দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দিতে এ সাক্ষ্য-প্রমাণ তুলে ধরেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর। বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নের্তৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সোমবার এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মো. মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহম্মেদ, আব্দুস সাত্তার পালোয়ান এবং শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত কৌসুলি মো. আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত চলাকালে গত ২৫ জানুয়ারি এক স্মারকের মাধ্যমে পুলিশ সদর দফতর থেকে জুলাই আন্দোলন দমনে ছাত্র জনতার ওপর ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির হিসাব সংক্রান্ত ২১৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন সংগ্রহ করি। ওই প্রতিবেদনে কি কি মরণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং কতগুলো গুলি ছোড়া হয়েছে তার উল্লেখ রয়েছে। র‌্যাব সদর দফতর থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছি। তদন্তকালে জব্দকৃত আলামতের তালিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আহত জুলাই যোদ্ধাদের ১ হাজার ৯২৭ জনের একটি তালিতকা সম্বলিত একাধিক গেজেট, ইউনাইটেড নেশন্স হিউম্যান রাইটস অফিস অব দ্যা ইউনাইটেড নেশন্স হাই কমিশন অব হিউম্যান রাইটস কর্তৃক সম্পাদিত ১১৪ পৃষ্টার একটি রিপোর্ট, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ এন্ড জাস্টিস প্রজেক্ট কর্তৃক ৭২ পৃষ্টার রিপোর্ট, অধিকার কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন-২০২৫, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ‘ওয়াল্ড রিপোর্ট’-২০২৫ এর বাংলাদেশ অংশ, দৈনিক ইত্তেফাকসহ ১৫টি পত্রিকায় প্রকাশিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিবেদন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ৫৪টি প্রতিবেদন, চীন সফর শেষে দেশে এসে গণভবনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পূর্ণ ভিডিও, যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণের বিভিন্ন ভিডিওসহ নানা আলামত জব্দ করি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা, জখম, নির্যাতন ও নিপীড়ণের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংগ্রহ করে জব্দ করেছি। তিনি বলেন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল, জাতীয় বার্ণ ইন্সটিটিউট থেকে জখমী সাক্ষীদের চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম থেকে ৮১ জন অজ্ঞাতনামা লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও সংগ্রহ করা হয়েছে। জব্দ তালিকা তুলে ধরার এক পর্যায়ে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশের গুলি করা এবং হত্যাকান্ডের ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শিত হয় ট্রাইব্যুনালে।
প্রসঙ্গত এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামাল পলাতক রয়েছেন। কারাগারে আছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিচারের সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments