বাংলাদেশ-সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই)। উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী। বক্তব্যে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এসে আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চেম্বারের জন্ম দেখতে পাচ্ছি। আমার মনে প্রশ্ন, এতো দেরিতে কেন? তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, অথচ এতো দিনেও এই চেম্বার গড়ে ওঠেনি—তা বিস্ময়ের। তবুও এই সূচনাই আশা জাগায়। মঈন খান বলেন, আমরা চাই, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হোক, পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্কও বাড়ুক বিস্ময়কর দ্রুততায়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক শুধুমাত্র ধর্মীয় বা মানবিক নয়, এটি পারস্পরিক আস্থার ওপর দাঁড়ানো এক দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব। এসএবিসিসিআই সেই বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলে দেবে। সৌদি ব্যবসায়ীদের বন্দর, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে প্রতিশ্রুত। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পূরণে বাংলাদেশ অংশীদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই চেম্বার দুই দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে এক সেতুবন্ধনে যুক্ত করবে, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, এবং বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ককে আরও গভীর, প্রাণবন্ত ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলবে। অতিথিদের সৌজন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যেখানে দুদেশের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত উপস্থাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন ২০ সদস্যের সৌদি প্রতিনিধি দল। যার নেতৃত্বে দিচ্ছেন শেখ ওমর আব্দুলহাফিজ আমিরবকশ। যিনি মাজদ আল উমরান গ্রুপের কর্ণধার। হসপিটালিটি, আবাসনসহ বেশ কিছু খাতে ব্যবসা আছে এ গ্রুপের। প্রতিনিধি দলে আছেন আল ইসায়ি গ্রুপের পরিচালক নাজি আব্দুল্লাহ। সেবা, উৎপাদনসহ নানা খাতে বিনিয়োগ আছে এ কোম্পানির। প্রতিনিধি দলে আছেন বাদশাহ আব্দুল আজীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আসিফ সালাম। যিনি একটি আইটি কোম্পানিরও কর্ণধার। সামিটে অংশ নিয়েছেন সৌদি আরবের আল তৈয়বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞ ডক্টর খালিদ আল হারবি।



