কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবু বকর আসিফ নামের এক প্রবাসী যুবকের মরদেহ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে এ বিক্ষোভ করা হয়। শনিবার সকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় অবরোধসহ এ বিক্ষোভ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিহত আসিফের পরিবার ও এলাকাবাসী এ্যাম্বলেন্সে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় অবরোধ করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় দিকে ১০/১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা ও মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুদ্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়।
নিহতের ছোট ভাই আরাফাত হোসেন বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। ছুটিতে দেশে এসে গত ২৭ অক্টোবর সদর দক্ষিণ উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে বিয়ে করেন। গত ৮ নভেম্বর দুপুরে ভাই নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। একই দিন সন্ধ্যায় শ্যালকসহ তার ভাই অলির বাজার এলাকায় ঘুরতে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে বাপ্পি ও পারভেজ নামে দুই যুবক আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করেন। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের স্বজনরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে চৌদ্দগ্রামের সৈয়দপুর এলাকায় অবরোধ করে। আমরা দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে বিক্ষুদ্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত রাব্বি ও পারভেজকে আসামি করে থানায় নিহত ওই প্রবাসীর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুইটি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



