জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর দিন নিজের বিরুদ্ধে আনীত দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন মামুন। তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, আমি দোষী। মামলার সমস্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কে যা জানি তা আমি স্বেচ্ছায় ও স্বত:প্রণোদিত হয়ে সম্পূর্ণরূপে সত্য প্রকাশ করতে সম্মত আছি। এরপরই তার লিখিত আবেদন মঞ্জুর করায় রাজস্বাক্ষী হন মামুন। পরে জুলাই গণআন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে মামুন বলেন, গত বছরের ১৮ জুলাই আমাকে ফোন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি লেথাল উইপেন (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ওই সময় আমি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ছিলাম। আমার সঙ্গে এডিশনাল ডিআইজি প্রলয়ও ছিলেন। নির্দেশনার বিষয়টি জানানোর পর ডিএমপি কমিশনারসহ সারাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেন প্রলয়। এরপর থেকেই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু হয়। তবে মারণাস্ত্র ব্যবহারে অতিউৎসাহী ছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিব ও ডিবির হারুন। মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল যেকোনোভাবে আন্দোলন দমাতে হবে।
রাজসাক্ষী মামুন বলেন, আমি ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছি। তবে চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এত বড় গণহত্যা আমার দায়িত্বে থাকতে সংঘটিত হয়েছে। এর দায় আমি স্বীকার করছি। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, গণহত্যার স্বীকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তিবর্গ, দেশবাসী ও ট্রাইব্যুনালের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করবেন। আমার এই সত্য ও পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে আল্লাহ যদি আমাকে আরও হায়াত দান করেন বাকি জীবনটা কিছুটা হলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাব। রাজসাক্ষী আরও বলেন, সরকারের আদেশে ছাত্র-জনতার ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে আহত-নিহত করায় পুলিশপ্রধান হিসেবে আমি লজ্জিত-অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। যে নৃশংস হত্যাকান্ড হয়েছে এজন্য অপরাধবোধ ও বিবেকের তাড়নায় আমি রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার উপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীকে প্ররোচিত করেন কামাল, আনিসুল, ফজলে নূর তাপস, সালমান এফ রহমান, ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মির্জা আযম, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও আন্দোলন দমনে সরকারকে উৎসাহিত করেন আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও ব্যবসায়ীরা।



