অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খান এবং সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আকতার হোসেন জানান, নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঐশী খানের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ি, দুদকের অনুসন্ধানে ঐশী খানের নামে ১ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের সম্পদ এবং ১১ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৪ টাকা পারিবারিক ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়। সর্বমোট ১ কোটি ৮১ লাখ ৭১ হাজার ৯০৪ টাকার সম্পদের বিপরীতে তার বৈধ আয়ের তথ্য পাওয়া গেছে মাত্র ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯২ টাকা। ফলে তার নামে থাকা ১ কোটি ৭১ লাখ ১৮ হাজার ৯১২ টাকা জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্জিত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা, অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে নোটিশ দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় গত ১০ জুলাই তার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরম ঝুলিয়ে নোটিশ জারি করা হয়। পরে ঐশী খান এক মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। দুদক তার আবেদন বিবেচনা করে নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের পাশাপাশি আরও ১৫ কার্যদিবস সময় দিলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, তার নামে বা বেনামে অতিরিক্ত সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শাওনের স্ত্রীর সোয়া ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদে মামলা :
অপরদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ভ‚ইয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নুরুন্নবী চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর নামে মোট ২ কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৬২ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা। অর্থাৎ ২ কোটি ২০ লাখ ৬১ হাজার ৬৯৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বা অবৈধ বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে গত ২০ জুলাই দুদক কর্মকর্তা তার ঠিকানায় গিয়ে নোটিশ প্রদান করতে গেলে কেউ গ্রহণ করেননি। পরে নিয়ম অনুযায়ী মূল ফরমটি ঝুলিয়ে জারি করা হয়। তারপরও নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে ফারজানা চৌধুরী সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। যে কারণে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ও ২৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।



