বø্যাকমেইল করে চাঁদাবাজির মামলায় জুলাই আন্দোলনের নেত্রী তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে (২১) গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। বুধবার গভীর রাতে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর গোপালপুরের টেকপাড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নিজেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী ও সমন্বয়ক পরিচয় দিতেন।
সুরভীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ছাড়াও হানিট্রাপের মাধ্যমে বø্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য, সরকারের একজন উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ নভেম্বর ঢাকার নাইমুর রহমান দুর্জয় নামের এক যুবককে ডেকে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় কালিয়াকৈরের আন্দারমানিক এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে। তার মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তারা দুর্জয়ের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে।
এক পর্যায়ে সুরভিকে নগদ সাড়ে ৪ হাজার এবং বিকাশে ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা দেওয়া হয়। এর পরও আরো টাকার জন্য মারধার করে এবং দুর্জয়ের গায়ের জামা খুলে সুরভির সাথে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং ইয়াবা ব্যবসা করেন মর্মে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে। পরদিন আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন। এ ঘটনায় গত ২৬ নভেম্বর তিনি বাদি হয়ে কালিয়াকৈর থানায় সুরভিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাহরিমা জান্নাত সুরভী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের ছাত্রী। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন অংশ নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হন। পরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তুলে নেতৃত্ব দেন।
ওই পরিচিতিকে পুঁজি করে তিনি সহযোগীদের নিয়ে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার করে অর্থ আদায় করতেন। ফাঁদে ফেলে ঢাকার গুলশানের এক ব্যবসায়ী কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, গ্রেফতারের পর তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে টঙ্গী পূর্ব থানা থেকে কালিয়াকৈর থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।



