পর্যটক দর্শনার্থীতে লোকারণ্য কক্সবাজার

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব ‘বড়দিন’র সাথে সপ্তাহিক মিলিয়ে তিনদিনের ছুটিতে কক্সবাজারে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক সমাগম ঘটেছে। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার দুপুর-বিকেল এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজার এসে পৌঁছান ভ্রমণপ্রেমীরা।

বিকেল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত নানা বয়সের পর্যটক-দর্শণার্থীতে লোকারণ্য হয়ে আছে সৈকততের বেলাভূমি ও পর্যটনস্পটগুলো। টানা এ ছুটিতে দরিয়ানগরে চার-পাঁচ লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিতি এবং কয়েকশ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বান্দরবানের চাকরীজীবি শামীম ছিদ্দিকী বলেন, পেশাগত কারণে পাহাড়েই পড়ে থাকতে হয়। পরিবারকে সময় দেয়া হয়ে উঠে না। বড়দিনের ছুটি মিলিয়ে টানা তিনদিন ছুটি পেয়ে বউ-বাচ্চাদের কক্সবাজার সাগরের সান্নিধ্য দিতে আসা। সমুদ্র আমাদের জন্য পুরোনো, কিন্তু বাচ্চাদের দিধারুণ আননদ দিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর বাচ্চাদের মা-ও বেলাভূমিতে আসতে পেরে আনন্দিত। শীতের হিমলতায় পরিবেশটা অন্যরকম ভালো লাগা দিচ্ছে।

মিরসরাই হতে বেড়াতে আসা আকিবুল ইসলাম বলেন, কোঁয়াশা মাখা সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখতে খুবই ভালো লেগেছে। সৈকততীর, হোটেল-মোটেল অলিগলি, রাস্তা সবখানেই লোকারণ্য। তবে, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইজিবাইক, রিক্সা, সিএনজি অটোরিক্সাসহ অন্য যানবাহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। চোখের নাগালে দুরত্ব হলেও ভাড়া চায় দেড়শ, দু’শ টাকা। এসব ছোট ছোট হয়রানি ভ্রমণপ্রেমীদের বিরক্ত দেয়।

কলাতলীর ব্যবসায়ী মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ছুটির দিন হলে লোক ও যান সমাগম ঘটে বেশি। ফলে, বাইবাস সড়ক, কলাতলী ডলফিন মোড়, হোটেল-মোটেল জোন, লাবণী, শৈবাল সড়ক সবখানেই তীব্র জানজটে নাকাল পর্যটন জোন। যানবাহনের সাথে রয়েছে লোকজটও।

বড় বাসগুলো টার্মিনাল ও আদর্শগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে থাকলেও মাঝারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি পর্যটন জোন এবং শহরে ঢুকায় যান ও জনজট লেগে আছে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপনন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নূর সোমেল বলেন, বড়দিন উপলক্ষে অতীতের মতো হোটেলের লবিতে যীশু ক্রিস্টের প্রতিকৃতি ও ক্রিসমাস্ট ট্রিতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। উৎসবের আমেজ তৈরিতে বড়দিন উপলক্ষ্যে হোটেলের রূপটপের চাঁদনী লাউঞ্জে গালাডিনারে আয়োজন রয়েছে। থার্টিফাস্ট ও নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হোটেল উল্লেখ করার মতো ব্যস্ত রয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, পর্যটনজোনের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহের জন্য প্রায় আগাম বুকিং হয়ে আছে। মৌসুমে এ সময়টুকুতে কয়েশ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

গাজীপুরের পর্যটক আহসান কবির জানান, লোকসমাগম বেশি দেখে সবকিছুর দাম বেশি- অটোরিক্সা, হোটেলের খাবারসহ সবকিছুতেই বাড়তি দাম বলে মনে হচ্চে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের যথাযথ তদারকি দরকার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments