শিল্পকলার মঞ্চে ‘গুনাই বিবি’ ও ‘লালন ফকির’

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় বিজয়ের মাসজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য যাত্রাপালা প্রদর্শনীর। এতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা যাত্রাদলগুলোর পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাত্রা প্রদর্শনী। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে পলাশ নরসিংদীর যাত্রাদল নিউ রাজমহল অপেরা মঞ্চায়ন করে ‘গুনাই বিবি’।

এর পালাকার ছিলেন সুমি আক্তার এবং পরিচালনায় ছিলেন উসমান গণি। এ ছাড়া গেন্ডারিয়া ঢাকার যাত্রাদল বঙ্গশ্রী অপেরা মঞ্চস্থ করে ‘লালন ফকির’। যাত্রাপালাটির পালাকার ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ এবং পরিচালনায় ছিলেন মনোয়ার হোসেন খান।

গুনাই বিবি’র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওসনান গনি, হেকমত আলী মাষ্টার, আসাদুল্লাহ, ইয়াছিন মিয়া, হানিফ মিয়া, আশরাফুল, হোসেন মিয়া, খোরশেদ আলম, সাখাওয়াত হোসেন, আরব আলী, অনিক, সুফি আক্তার, শাহিনুর আক্তার, লাভলী আক্তার, আইরিন আক্তার প্রমুখ। নেপথ্য শিল্পী ও কলা-কুশলী হিসেবে ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন সাগর ও রাহুল মিয়া।

একই মঞ্চে প্রদর্শিত হয় যাত্রাপালা লালন ফকির। এর গল্পে দেখা যায়, অজানা অজ্ঞাত এক মায়াবী আকর্ষণে লালন ছুটে চলেছে মাকে ছেড়ে, স্ত্রীর মোহ ভুলে। সংসার তাঁর কাছে তুচ্ছ এক মায়ার বাঁধন। যে বাঁধনের গন্ডি সে ভাঙ্গতে চায়। লালন একসময় তীর্থ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন সতীর্থদের সাথে।

রাস্তায় বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে ফেলে চলে আসেন। নিঃসন্তান মোকছেদ-সাকিনা দম্পতির কাছে আশ্রয় হয় লালনের। আধ্যাত্মিক সাধক সিরাজ সাঁইকে গুরু মেনে শুরু হয় লালনের সঙ্গীত সাধনা-ভাবসাধনা। ব্যথা-বেদনা, হাসি-কান্না আর সাধন মার্গের রহস্য ফুঁটে উঠেছে এই পালার কাহিনীতে।

‘লালন ফকির’ এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোয়ার হোসেন, নিতাই মন্ডল, প্রদীপ কির্ত্তূনীয়া, জন্মেজয় বিশ্বাস, মকবুল হোসেন, পরিতোষ মÐল, সুব্রত মÐল, মিঠুন ইসলাম, উত্তম মÐল, শামীম খন্দকার, দেবব্রত ফৌজদার, ঐন্দ্রি মÐল, টুকুরানী, আল্পনা বৈরাগী, নাইচ গোলদার, করুণা বৈরাগী প্রমুখ। নেপথ্য শিল্পী ও কলা-কুশলী হিসেবে ছিলেন গোপাল মাষ্টার, ভানু, কৃষ্ণ, বলাই, রাধেশ্যাম প্রমূখ।

মাসব্যাপী এই যাত্রাপালা প্রদর্শনীতে নিবন্ধিত ৩৬টি যাত্রাদল ৩৬টি যাত্রাপালা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রাদলের ১টিসহ ৩৭টি যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হবে। এছাড়াও প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে জাতীয় নাট্যশালার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে পরিবেশিত হচ্ছে দেশাত্মবোধক যাত্রাগানের কনসার্ট।

উল্লেখ্য, প্রতিদিনের প্রদর্শিত যাত্রাপালাগুলো জুরি বোর্ডের বিচারকদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে মাসব্যাপী যাত্রাপালা প্রদর্শনী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments