রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের শতবর্ষ স্মরণে মঞ্চায়ন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আর্জেন্টিনার লেখিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মঞ্চায়িত হলো নাটক ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’। নাট্যদল ম্যাড থিয়েটারের প্রযোজনায় নাটকটির ১১তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
নাটকটির রচনা, নির্দেশনা ও পরিকল্পনা করেছেন ম্যাড থিয়েটারের প্রধান পরিচালক আসাদুল ইসলাম। দ্বিপাত্রিক এ নাটকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসাদুল ইসলাম নিজেই। অন্যদিকে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোনিয়া হাসান।
ম্যাড থিয়েটার জানিয়েছে, শতবর্ষের এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে তাদের এ আয়োজন।
১৯২৪ সালে পেরুর স্বাধীনতা সংগ্রামের শতবর্ষ উদযাপনে আমন্ত্রিত হয়ে দক্ষিণ আমেরিকা সফরে যান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দীর্ঘ দুই মাসের সমুদ্রযাত্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে যাত্রাবিরতি নিতে বাধ্য হন কবি। সেখানে প্লাজা হোটেলে অসুস্থ অবস্থায় তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন রবীন্দ্রভক্ত ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
পরবর্তীতে ওকাম্পোর আমন্ত্রণে সান ইসিদ্রোর রিও দে লা প্লাতা নদীর তীরের ‘মিরালরিও ভিলা’য় প্রায় দুই মাস অবস্থান করেন রবীন্দ্রনাথ। সেই ঐতিহাসিক সময়, সম্পর্ক ও অনুভূতির ক্যানভাসেই নির্মিত হয়েছে ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’।
নাটকটিতে সান ইসিদ্রোর দিনগুলো, নদীর দৃশ্য, কবিতা লেখা এবং ওকাম্পোর সঙ্গে কবির গড়ে ওঠা গভীর সম্পর্কের স্মৃতিচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
নির্দেশক আসাদুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অস্থির পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের চিরন্তন আবেগকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রযোজনায়। বিভেদহীন, প্রেমময় পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’ একটি নির্মল নিবেদন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাটকটির আলোক প্রক্ষেপণে রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম সায়ান এবং আবহসংগীত নিয়ন্ত্রণ করেছেন পৃথুলা।



