সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব কবিতা দিবস উদযাপন

কবিতা পাঠ, স্মারক বক্তৃতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং গুণীজন সম্মাননার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশ যৌথভাবে বিশ্ব কবিতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে ‘এ পোয়েম, এ রেভল্যুশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন, স্কুল অব ল-এর ডিন অধ্যাপক ড. ফারহানা হেলাল মেহতাব, রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশের সভাপতি আব্বাস ফারুক এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গৌরাঙ্গ মহন্ত। স্বাগত বক্তব্য দেন স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল হক।

এবারের আয়োজন উৎসর্গ করা হয় প্রখ্যাত লোকসাহিত্য গবেষক ড. আশরাফ সিদ্দিকীর স্মৃতির প্রতি। তাঁর জীবন, সাহিত্যকর্ম ও অবদান নিয়ে স্মারক বক্তব্য দেন তাঁর কন্যা অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. আবদুল করিম মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আজম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পেশাজীবী তৈরি করে না, বরং মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ গড়ে তোলে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা মানবিক সমাজ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশের সভাপতি আব্বাস ফারুক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. এম. মোফাজ্জল হোসেন, অধ্যাপক আহমদ রেজা, অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম এবং কবি, চিত্রশিল্পী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব রায়। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গৌরাঙ্গ মহন্ত এবং সাধারণ সম্পাদক তালুকদার লাভলী।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি পারভেজ চৌধুরী, কবি অজিত তনচঙ্গ্যা, কবি আশাবন চাকমা, ঊষাতন চাকমা, তুষার কবীর, নিলয় রফিক, কবি আনন্দ জ্যোতি চাকমাসহ এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও ওশেনিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশের কবি, সাহিত্যিক ও গবেষকরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

আব্বাস ফারুক বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে কবিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তরুণদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ আয়োজন।

তালুকদার লাভলী বলেন, বিশ্ব কবিতা দিবসের এ আয়োজন কবিতা, সাহিত্য ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। একটি সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সাহিত্য-সংস্কৃতির কোনো বিকল্প নেই।

বিপ্লব রায় বলেন, বাস্তবতার কঠিন সময়েও কবিতা মানুষকে কল্পনা, সৌন্দর্য ও আত্মঅন্বেষণের জগতে নিয়ে যেতে পারে। একটি ছোট কবিতাও মানুষের গভীর অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি পাঠকের মনে প্রশান্তির আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments