নাট্যদল থিয়েটার চারণিকের ষষ্ঠ প্রযোজনা ‘কালযাত্রা’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত্যুর পর এক যাত্রাশিল্পীর শেষ ইচ্ছাকে ঘিরে নাটকটির কাহিনি। ‘কালযাত্রা’ লিখেছেন মাহফুজা হিলালী। নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর। এতে একক অভিনয় করেছেন সাফিয়া খান্দকার রেখা।
নাটকের গল্পে দেখা যায়, কুমকুমের মা প্রিন্সেস মহিমা ছিলেন একজন খ্যাতিমান যাত্রাশিল্পী। মঞ্চে কখনো সীতা, কখনো দ্রৌপদী, কখনো বেহুলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে চরিত্র ও পালা বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি তার জীবনের অপমান, ক্ষত ও না-পাওয়ার বেদনা।
মহিমার মৃত্যুর পর কুমকুমের সামনে আসে মায়ের শেষ ইচ্ছা—জানাজা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে তাকে একের পর এক বাধার মুখে পড়তে হয়। ধর্মীয় বিধান, সামাজিক নিষেধ ও ক্ষমতার অদৃশ্য হিসাবের মধ্য দিয়ে কুমকুম এগিয়ে যেতে থাকে।
মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের এই যাত্রায় কুমকুম উপলব্ধি করে, মানুষকে ঘিরে থাকা সবচেয়ে কঠিন দেয়াল ইট-পাথরের নয়; পরিচয়, ভয় ও সামাজিক নিষেধই অনেক সময় সেই দেয়াল তৈরি করে।
নাটকে মহিমার ফেলে যাওয়া মঞ্চও বারবার ফিরে আসে। স্মৃতির পর্দা উঠে অতীতের চরিত্রগুলো যেন বর্তমানের সঙ্গে মিশে যায়। কখনো দ্রৌপদীর প্রশ্ন, কখনো বেহুলার প্রতীক্ষা, কখনো সীতার অগ্নিপরীক্ষা—মঞ্চের অভিনয় ও জীবনের বাস্তবতা ধীরে ধীরে একাকার হয়ে ওঠে।
মহিমার অসমাপ্ত জীবনের সঙ্গে চিরচেনা নারীদের গল্পও যুক্ত হয় এক অদ্ভুত কালযাত্রায়। ধর্ম, অধর্ম ও মানবতার প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় নাটকটি। এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রয়াস ফুটে ওঠে সাফিয়া খান্দকার রেখার একক অভিনয়ে।
‘নাটক মোদের অধিকার, রুখবে নাটক সাধ্য কার’—এই প্রত্যয়ে ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে থিয়েটার চারণিক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দলটি নিয়মিত নাট্যচর্চা, মঞ্চায়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
‘কালযাত্রা’ সেই ধারাবাহিক পথচলারই নতুন প্রযোজনা। মঞ্চের আলো, সম্পদ ও সুযোগ সীমিত হলেও নাটক বলার ইচ্ছা, মানুষের কাছে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা সীমিত নয়—এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই দলটির পথচলা।



