কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে তৈরি নাটক ‘অচলায়তন’-এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে প্রাচ্যনাটের ৪২তম প্রযোজনাটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রথার দেয়াল ভাঙার বার্তা নিয়ে প্রাচ্যনাটের ‘অচলায়তন’ নাটকটি মঞ্চে এসেছে। এবারের প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের প্রতিবাদী গান ‘অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’।
নাটকটির নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম জানান, আধুনিক সময়ের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখেই পিংক ফ্লয়েডের গানটি নাটকে যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পিংক ফ্লয়েডের গানটিতে যেভাবে শিশুদের একটি ছাঁচে ঢালা ইটের মতো বানানোর প্রতিবাদের কথা বলা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথের ‘অচলায়তন’-এর মূল সুরও একই। সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাটকের শেষ অংশে শিল্পীদের খালি কণ্ঠে ‘উই ডোন্ট নিড নো এডুকেশন, উই ডোন্ট নিড নো থট কন্ট্রোল’ চরণগুলো রাখা হয়েছে।
‘অচলায়তন’ নাটকের গল্পে দেখা যায়, বহুদিন ধরে চলে আসা প্রথাকে কঠোর নিয়মে পালন করতে গিয়ে সময়ের আবর্তনে অচলায়তন বিদ্যায়তনের কোনো পরিবর্তন হয় না। এখানকার শিক্ষার্থীরাও কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবতীয় নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে চলে।
এই বিদ্যায়তনের দুই শিক্ষার্থী পঞ্চক ও মহাপঞ্চক। আপন ভাই হলেও তাদের জীবনদর্শন সম্পূর্ণ বিপরীত। পঞ্চক বিদ্রোহী মনোভাবসম্পন্ন। সে সব গতানুগতিকতাকে প্রশ্ন করে এবং অচলায়তনের নিয়মতান্ত্রিকতার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে। অন্যদিকে মহাপঞ্চক গতানুগতিক চিন্তাপ্রবাহে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে এবং বিদ্যায়তনের সব নিয়ম কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অনুসরণ করে।
দুই ভাইয়ের মধ্যকার এই ইচ্ছার দ্বন্দ্ব আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায় যখন অচলায়তনে একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু নিয়মতান্ত্রিকতা অটুট রাখার স্বার্থে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে থাকে।
একসময় বাইরের বাস্তব জগতের মানুষের সঙ্গে অচলায়তনের শিক্ষার্থীদের পরিচয় ঘটে। এর মধ্য দিয়ে পুরোনো চিন্তার প্রাচীন দেয়াল ভেঙে পড়ে এবং শুরু হয় নতুন স্পন্দন।
নির্দেশকের ভাষায়, ‘অচলায়তন বিদ্যাপীঠকে আমরা কল্পনা করেছি একটি নারী শিক্ষাগৃহ হিসেবে। নারীকে কুসংস্কার ও নানা বিধিনিষেধের মধ্যে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র এখনো বিদ্যমান। কখনো কখনো সেই ষড়যন্ত্রে নারী নিজেও যেন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। দৃশ্যমান দুই বিপরীত গতির সম্মিলন ঘটানোর চেষ্টা আছে এ প্রযোজনায়।’
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা প্রীতি, শাহানা রহমান সুমি, শাহেদ আলী, ফরহাদ হামিদ, জাহাঙ্গীর আলম, প্রদ্যুৎ কুমার ঘোষ, চেতনা রহমান ভাষাসহ অনেকে।
মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন মো. সাইফুল ইসলাম। সংগীত ভাবনায় রয়েছেন নীল কামরুল। কোরিওগ্রাফি করেছেন স্নাতা শাহরিন।
‘অচলায়তন’ নাটকটি প্রথম মঞ্চে আসে ২০২৩ সালে।



