মাঝপথে এসে রাজশাহী শহরে নির্মাণাধীন চারটি ফ্লাইওভারের নকশায় ত্রæটির অভিযোগ উঠেছে। যানজট নিরসনে এসব ফ্লাইওভার প্রকল্প গৃহীত হলেও নকশায় ত্রæটির কারণে চালুর পর এসব ফ্লাইওভার প্রবেশপথে যানজট সৃষ্টি হবে। বিষয়টি নজরে আসায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ আগামী ৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের রাসিকের সাবেক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের সময়ে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মধ্যে তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এসব প্রকল্পগুলোর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন নগরবাসী।
রাসিক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ফ্লাইওভারগুলো ল্যান্ডিংয়ের জায়গা নেওয়ার ফলে দুই পাশের যান চলাচলের স্থান সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে ফ্লাইওভার চালু হলে সেসব স্থানে উল্টো নতুন করে যানজটের সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আমি বিশেষজ্ঞ নই। তবে আমি রাজশাহীর মানুষের পক্ষ থেকেই এমন অভিযোগ পেয়েছি।’
সূত্র জানায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে যানবাহন যেন আটকে না থাকে, যানজটের সৃষ্টি না হয়, সেই উদ্দেশ্যে এসব ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে নগরের সিটি বাইপাস সড়কের রায়পাড়া রেলক্রসিংয়ের ওপর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন বন্ধগেট রেলক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
নতুন বিলশিমলা রেলক্রসিংয়ের ওপর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর রেলক্রসিংয়ে (গোরহাঙ্গা) সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। একই সময়ে শহরের ভদ্রা রেলক্রসিংয়ে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে এই ফ্লাইওভারের দরপত্র আহŸানের আগেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
পরে রাসিক চিঠি দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানায়, ওই ফ্লাইওভারটি আর নির্মাণ করা হবে না। ফলে ৬৬০ কোটি টাকার ফ্লাইওভার প্রকল্প থেকে ১২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পটি বাদ যায়। ৫৪০ কোটি টাকায় চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, নির্মাণাধীন চারটি ফ্লাইওভার প্রকল্পের মধ্যে শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বর রেলক্রসিং থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিউমার্কেট অংশের কাজকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘অপরিকল্পিত’ দাবি করে নির্মাণ বন্ধের দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে কয়েক দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান জানান, একটি সংস্থার মাধ্যমে ফ্লাইওভারগুলোর নকশা প্রণয়ন করা হয়। তারপর কাজ শুরু হয়েছিল। রাসিকের নতুন প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার এখন নতুন কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এসব নিয়েই আগামী ৬ জানুয়ারি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এখন তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
মাহমুদুর রহমান জানান, নির্মাণাধীন চারটি ফ্লাইওভারের মধ্যে তিনটির কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্বরের ফ্লাইওভারের উত্তর পাশের কাজ এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিউমার্কেট অংশের কাজ নকশার ত্রæটির কারণে আপাতত বন্ধ রয়েছে। এটি নতুন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রাসিক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘রাজশাহীর লোকজনই যানজটের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন, ফ্লাইওভার থেকে নামার পর দুই পাশের সড়ক এতটাই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে যে, যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে।



