নামে নামে মিল থাকার জের, ধরল মনিরুজ্জামান নামে রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীকে

প্রবাদ আছে, ‘নামে নামে জমে টানে’। এর অর্থ হল-নামের মিলের কারণে মানুষের ভাগ্য খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এমন নামের মিলের কারণে রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মোঃ মনিরুজ্জামানকে ‘মনির’ নামে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী থানাধীন গুদারাঘাটের এইচ ব্লকের ৫ নম্বর রোডর ৬/৩ নম্বর বাড়িতে। গত ১৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সাদা পোষাকে ৪/৫ জন তার বাসার সামনে থেকে মনিরুজ্জামানকে আটক করে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ করা হয়। তারা নিজেদেরকে র‌্যাব সদস্য বলে পরিচয় দেয়। এরপর তাকে নিয়ে বাসায় ঢুকে পরিবারের সামনে মারধর করতে থাকে। তার প্যান্টের পকেট থেকে ২০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলে র‌্যাব সদস্যরা দাবি করে। তাকে রাতেই শাহআলী থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরদিন র‌্যাব-৪ এর (সিপিসি-স্পেশাল) পরিদর্শক মো: আতিক মাহমুদ বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় মোঃ মনিরুজ্জামান ও মোঃ মনির হোসেনকে আসামী করা হয়। এর মধ্যে মনিরুজ্জামানের প্যান্টের পকেট থেকে ২০ পিচ ও মোঃ মনির হোসেনের লুঙ্গির বাম কোচর থেকে ১৬ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে মোঃ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী দোলন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন ১৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে প্রথমে ৪/৫ জন লোক তার বাড়ির দোতালায় প্রবেশ করে নিজেদেরকে র‌্যাব সদস্য বলে পরিচয় দেয়। এসময় র‌্যাবের জ্যাকেট পরিহিত ৫/৬ জন ব্যক্তি তার স্বামীকে মারতে মারতে বাসার ভিতর ঢোকায়।

র‌্যাব চিৎকার করে বলতে থাকে, কেউ নড়াচড়া করবে না। মনির একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার কাছে ইয়াবা আছে। এসব কথা বলতে বলতে আমাদেরই সামনে আমার স্বামীকে লাথি মারতে মারতে মেঝেতে শুইয়ে দেয়। এসময় আমি র‌্যাব সদস্যদের পায়ে ধরে তাকে মারতে নিষেধ করি। তখন র‌্যাব জানায়, ইয়াবা ব্যবসার স্বীকার করলেই মারধর বন্ধ করা হবে। আমি তখন বলি, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে গত ৫/৬ বছরে একটি মামলা নেই, জিডি নেই। মাদক ব্যবসা তো দূরের কথা। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাকে নিয়ে যায়। ওই রাত ৩ টার দিকে শাহআলী থানা থেকে পুলিশ ফোন দিয়ে জানায় যে তার স্বামীকে র‌্যাব সদস্যরা থানায় দিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, শাহ আলীর গুদারাঘাটে পৌণে ২ কাঠা জমির ওপর তাদের দোতালা বাড়ি। নিচতলায় চারটি রুমে ভাড়াটিয়ারা থাকেন। দোতালা তিনি স্বামী ও তিন মেয়ে, ১ ছেলেসহ সপরিবারে থাকেন। তার স্বামী রেন্ট-এ-কারে ১ টি প্রাইভেট কার ও ১ টি নোহা মাইক্রোবাস দিয়ে ব্যবসা করেন। এখানকার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে তাদের বাড়িটি দখল করতে। ধারণা করছি, ওই চক্রটি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গুদারাঘাটে মনির নামে অন্তত ৫/৬ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। হয়তো র‌্যাবকে ভুল তথ্য দিয়ে কেউ তার স্বামীকে গ্রেফতার করিয়েছে। তার স্বামী এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।
স্থানীয় একজন দোকানি আবু মঈন ইমন জানান, তার কাছে সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়েছে র‌্যাব। তাতে কি লেখা তা তিনি জানেন না। পরে তিনি জানতে পারেন যে মনিরুজ্জামানকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সাক্ষী বানানো হয়েছে মনিরুজ্জামান গ্রেপ্তারের ঘটনায়।

তিনি বলেন, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মাদক কারবারি নয়। এলাকায় মনির নামে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এদের নামেও বাহারি রয়েছে। মুরগি মনির, স্টিক মনির, আমেনা বুজিরে পোলা মনির, গাঁজা মনির, বাবা মনির- আরো অনেক নামে মনির রয়েছে, যারা শাহআলী থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি।

ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামানের স্ত্রীর দাবি হয়রানি করতেই তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি র‌্যাব সদর দপ্তর ও র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৪ এর একজন কর্মকর্তা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহআলী থানা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরকে ২০ পিচ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments