জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আগে প্রকাশিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’- উভয় ভোটের সংখ্যাই কমেছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক গেজেটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
সংশোধিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগের ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি। অন্যদিকে ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। তবে বৈধ ভোট কমলেও বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপক সংশোধনীর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ গেজেটে উল্লেখ করেনি।
তবে ইসির কর্মকর্তারা জানান, তিনশ’ আসনের ফলাফল একীভূত করার সময়ে নেত্রকোনার একটি আসনের ফলাফলে করণিক ভুল ছিল। এ কারণে নতুন করে সংশোধনী আনা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে ইসি। তখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন এবং ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট।
সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ জন এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ জন। নতুন হিসাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি।
উল্লেখ্য, এই গণভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ‘জুলাই জাতীয় সনদে’র সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত করা হয়।


