সীমান্তে আটক তিন বন্ধুর ভারতে গিয়ে কাজের স্বপ্ন ভেঙে দিল বিজিবি

নীলফামারীর ডোমার সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের আগেই তিন শিশুকে আটক করে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। শিশুদের ভাষ্যমতে, তারা তিনজনই ভিন্ন জেলার। কাজের উদ্দেশে গোপনে ভারত যাওয়ার পথে তাদের আটক করেছে চিলাহাটি সিমান্ত এলাকার বিজিবি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ডোমার থানাধীন ডাঙ্গাপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৮২/৪-এস সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় শিশুদের আটক করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে তাদের ডোমার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক তিন শিশু হলো- নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজি ইপিজেড এলাকার মো. ইসরাফিলের ছেলে মো. ইরফান (১২), ঢাকা কোনাবাড়ি এলাকার আক্তারের ছেলে মো. সাজ্জাদ (১৩), সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার নতুন বাসতলা এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো. সাব্বির (১0)

স্বজনদের অগোচরে তারা কাজের উদ্দেশে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে। রাজশাহীতে একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হয়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দিনের বেলায় ট্রেনে চিলাহাটি পৌঁছালেও সীমান্ত অতিক্রমের আগেই বিজিবির হাতে আটক হয়। জানা গেছে, তিন শিশুর বাবাই অন্যত্র বিয়ে করায় দীর্ঘদিন ধরে তারা বাবার স্নেহ ও খোঁজ থেকে বঞ্চিত।

সাব্বির জানায়, তার মা মারা গেছেন এবং বাবা অন্যত্র বিয়ে করে খোঁজ নেন না। স্বজনদের সঙ্গে থাকলেও কাউকে না জানিয়ে সে বাড়ি ছাড়ে। রাজশাহীতে গিয়ে অন্য দুই শিশুর সঙ্গে পরিচয় হয় এবং পরে তারা বন্ধু হয়ে একসাথে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। জাব্বির বলে, ভারতের পুলিশ গুলি করে দিতো, অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।

ইরফান জানায়, তার বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেন। আত্মীয়দের সঙ্গে স্থায়ীভাবে না থাকায় সে কাজের সন্ধানে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

সাজ্জাদ জানায়, তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে গেছেন এবং মা কাজের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার খোঁজ না নেওয়ায় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে ভারতে কাজের উদ্দেশে রওনা দেয়।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ জানান, তিন শিশু তিন জেলার হলেও তারা নিজেদের বন্ধু বলে পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে তারা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের হস্তান্তর করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments